কবি সুফিয়া কামালের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক বার্তা সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক শাহেদ কামাল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শনিবার রাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মায়ের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন ‘সাঁঝের মায়ায়’ তার মরদেহ রাখা হয়।
বিদেশে অবস্থানরত তার বোন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল জানিয়েছেন, রোববার (৫ জুলাই) জোহরের নামাজের পর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে শাহেদ কামালের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে আজিমপুর কবরস্থানে মা কবি সুফিয়া কামালের কবরের পাশেই দাফন করা হবে। বর্তমানে জীবিত দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে শাহেদ কামালই ছিলেন সবার বড়।
শাহেদ কামাল ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসে (এপিপি) কাজ শুরু করেন এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। নটরডেম কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও যোগ দেন।
আজীবন অবিবাহিত এই প্রবীণ সাংবাদিক বাংলাদেশের স্কাউট আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ধ্রুপদী সংগীত, চারুকলা, সাহিত্য এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে তার বিশেষ দক্ষতা ও পাণ্ডিত্য ছিল। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা ও শিক্ষা মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সময়ের আলো/জেডি