২০২৮ সাল থেকে নতুন নকশার ই-পাসপোর্ট

রফিকুল ইসলাম সবুজ

জাতীয়

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট সেবায় বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান ই-পাসপোর্ট বুকলেটের নকশায় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে ২০২৮ সালের শুরু

2026-07-05T05:24:26+00:00
2026-07-05T05:24:26+00:00
 
  রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬,
২১ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
২০২৮ সাল থেকে নতুন নকশার ই-পাসপোর্ট
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৪ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট সেবায় বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান ই-পাসপোর্ট বুকলেটের নকশায় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে ২০২৮ সালের শুরু থেকে নতুন ডিজাইনের পাসপোর্ট চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। 

নতুন এ নকশায় পাসপোর্টের অভ্যন্তরীণ পাতায় বিদ্যমান ১৪টি ছবি পরিবর্তন করা হবে। ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জুন মাসের পর্যালোচনা বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্ট বুকলেটের বর্তমান নকশা ও ছবির বিন্যাস সংশোধন করে আরও উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর (ডিআইপি) থেকে ইতিমধ্যে ২৮টি ছবি নির্বাচন করে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যেখান থেকে চূড়ান্তভাবে ১৪টি ছবি নতুন পাসপোর্টের জন্য নির্বাচিত হবে। 

বৈঠকে প্রকল্প পরিচালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মজুদ থাকা ই-পাসপোর্ট কাঁচামাল দিয়ে ২০২৭ সালের নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব। ফলে গ্রাহকদের জন্য নতুন ডিজাইনের এই উন্নত পাসপোর্ট সেবা শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ডিসেম্বর ২০২৭ অথবা জানুয়ারি ২০২৮। তবে জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানি থেকে সময়মতো কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত এই নতুন নকশার অনুমোদন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।।

বৈঠকে জানানো হয়, রাশিয়া ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোতে পাসপোর্ট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে সেখানে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। 

এ পরিস্থিতির ফলে রাশিয়া এবং এর নিকটবর্তী দেশগুলোতে (যেমন : বেলারুশ ও কাজাখস্তান) অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিরবচ্ছিন্ন ই-পাসপোর্ট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে সাময়িকভাবে সফটওয়্যার পর্যায়ে কারিগরি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং উজবেকিস্তান ও পোল্যান্ড মিশনের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের প্রবাসীদের সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস থেকে প্রাপ্ত একটি বিকল্প পদ্ধতিতে মস্কো মিশনে সেবা চালুর বিষয়টিও বর্তমানে বিবেচনাধীন।

অন্যদিকে সৌদি আরবে রিয়াদ ও জেদ্দা- এ দুটি মিশনের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হলেও প্রবাসীদের বিশাল সংখ্যার কারণে সবাইকে কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ই-পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট ও রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়, যা বিপুলসংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। 

এ ছাড়া ‘সৌদি ভিসা বায়ো অ্যাপস’ ই-পাসপোর্টের চিপ থেকে তথ্য পড়তে না পারায় একটি কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা নিরসনে ত্রিপক্ষীয় সভার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর চাপ সামলাতে সৌদি আরবে স্থায়ী সমাধানের জন্য ২টি নতুন ই-পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অফিসগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় স্থান, জনবল এবং প্রশাসনিক সহায়তার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। 

বর্তমানে ব্যবহৃত ১৩টি মোবাইল এনরোলমেন্ট কিটের পাশাপাশি আরও ৮টি অতিরিক্ত কিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ‘সৌদি ভিসা বায়ো অ্যাপস’ যাতে ই-পাসপোর্টের চিপ থেকে তথ্য পড়তে পারে, সেই কারিগরি সমস্যা সমাধানে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ই-পাসপোর্ট প্রকল্প এবং সৌদি ভিসা বায়ো অ্যাপসের কারিগরি টিমের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

২০১৮ সালে শুরু হওয়া ৯০৩৮ কোটি টাকার এ মেগা প্রকল্পটি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ থাকা এই প্রকল্পের মে ২০২৬ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬২ শতাংশে এবং এ পর্যন্ত মোট ৫,৭৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। 

প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ২ কোটি ১৫ লাখ ই-পাসপোর্ট কাঁচামাল আমদানি করা হয়েছে এবং আরও ৩৫ লাখ আমদানির জন্য এলসির প্রক্রিয়া চলমান। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী গত ১৫ ডিসেম্বর আরও ১ কোটি ই-পাসপোর্ট কাঁচামাল এবং ৫৭ লাখ ই-পাসপোর্ট কেলট সরবরাহের জন্য একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই কাঁচামালগুলো এলসি-৯ থেকে এলসি-১২-এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে আমদানি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ কেলট ও কাঁচামাল মজুদ আছে, তা দিয়ে ২০২৭ সালের নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ই-পাসপোর্ট সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। 

কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বর্তমান মজুদ শেষ হয়ে যাবে, তাই ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন ডিজাইনের পাসপোর্ট সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় সব কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহম্মদ নুরুস ছালাম পিএসসি বৈঠকে জানান, বিশ্বের ১৬২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বর্তমানে ই-পাসপোর্ট সুবিধা পাচ্ছেন। বিদেশে অবস্থিত ৮০টি মিশনের মধ্যে ৭১টি মিশনে ইতিমধ্যে সফলভাবে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। 

এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য যাচাইয়ে ই-পাসপোর্ট সিস্টেমের সঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড বাজেট ও হিসাব সিস্টেম যুক্ত করার কাজ চলছে। এর ফলে কোনো আবেদনকারী তার পেশার তথ্য গোপন করে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করলে তা সহজেই ধরা পড়বে। 

প্রকল্প পরিচালক জানান, বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন নকশার অনুমোদন ও বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট আরও বেশি সুরক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের পেশা যাচাই সহজ করতে এবং তথ্যের অপব্যবহার রোধে ই-পাসপোর্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আইবাস সিস্টেমের সংযোগ স্থাপনের জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

তিনি বলেন, বিশেষ বিবেচনায় এবং জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা দিতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট মেইনটেন্যান্স ফি-র মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সরকার বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মিশন রাশিয়া ও সৌদি আরবে পাসপোর্ট সেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   নতুন  নকশা  ই-পাসপোর্ট  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: