দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে আবারও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের কূটনৈতিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে পাকিস্তানের মাটিতে।
শনিবার (৪ জুলাই) সৌদি আরবভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবিয়া’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরবর্তী দফার এই আলোচনার মধ্যস্থতা ও আয়োজন করছে পাকিস্তান। আগামী ১১ জুলাই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে
প্রতিবেদনে জানানো হয়, আসন্ন এই বৈঠকে মূলত ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিভিন্ন দেশে ইরানের জব্দকৃত অর্থ বা সম্পদ ফেরত এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন ও শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই এই বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে গত ১৮ জুন লেবাননসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটানোর বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল।
এরপর গত ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে উভয় দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তার ঠিক আগের দিনই পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি সফল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের সঙ্গে ইতঃপূর্বেই পৃথক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন এবং পূর্বের সমঝোতা স্মারক সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষই আগামী দিনগুলোতে এই আলোচনার ধারা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বৈঠকের এই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি