মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো প্রচেষ্টা আঞ্চলিক দেশগুলোর সক্রিয় সমর্থন ছাড়া কখনোই সফল বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা যেন ইসরায়েল কোনোভাবেই ‘ধ্বংস’ বা ভেস্তে দিতে না পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা ও অবদান থেকে শক্তি না নেওয়া কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে নস্যাৎ করার জন্য ইসরায়েলি প্রশাসনের সব ধরণের অপচেষ্টা আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমান যুদ্ধাসক্ত ইসরায়েলি সরকারকে আমাদের এই ভূখণ্ডকে আবারও বারুদের গন্ধ ও রক্তে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না।’
তুর্কি প্রেসিডেন্ট এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। এর পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত হামলারও বারবার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের পর শান্তি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে গত সপ্তাহে কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল এক পরোক্ষ বৈঠকে বসে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, পূর্বে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনকে জানাতে তেহরান একটি বিশেষ ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ প্রতিষ্ঠা করবে।
উল্লেখ্য, কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি টেকসই সমাধান এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই সমঝোতার ব্যাখ্যা নিয়ে তৈরি হওয়া মতপার্থক্যের জের ধরে গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালিয়েছিল।
সময়ের আলো/জেডি