রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদলের জরুরি সভায় সদ্য ঘোষিত নির্বাহী কমিটি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সভা স্থগিত করা হয়।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে যুবদলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সদ্য ঘোষিত ১৫১ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, কমিটিতে স্থান পাওয়া কয়েকজন নেতার দায়িত্ব ও তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকপন্থী নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ একে অপরের ওপর দায় চাপাতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানান, সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না সহসভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন কমিটিতে থাকা মো. কামরুজ্জামান, শামসুজ্জোহা সুমন ও মনিরুল ইসলাম সোহাগের আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক বাড়তে থাকে।
সূত্রগুলোর দাবি, কমিটির মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকপন্থী নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করেন। সভায় সহসভাপতি মাহমুদুস সালেহীন কক্সবাজারের আরেক সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ সময় মাহমুদুস সালেহীনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়েও কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তোলেন।
বৈঠকের একপর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সহসভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি সভাপতির স্বাক্ষরেই সহসভাপতির পদ পেয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরোজ আবদুল্লাহ সভা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর উত্তেজনা আরও বেড়ে গেলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যেও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত জরুরি সভা স্থগিত করা হয়।
সময়ের আলো/এসএকে