‘গাজার আবর্জনা পরিষ্কার করানোর নতুন চাল’, হামাস সরকার ভেঙে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকা শাসনের পর অবশেষে বেসামরিক সরকারি ক্ষমতা বিলুপ্ত করে একটি নতুন ও নিরপেক্ষ ‘ফিলিস্তিনি

2026-07-07T17:32:41+00:00
2026-07-07T17:34:43+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬,
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘গাজার আবর্জনা পরিষ্কার করানোর নতুন চাল’, হামাস সরকার ভেঙে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩২ পিএম  আপডেট: ০৭.০৭.২০২৬ ৫:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকা শাসনের পর অবশেষে বেসামরিক সরকারি ক্ষমতা বিলুপ্ত করে একটি নতুন ও নিরপেক্ষ ‘ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট’ কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে হামাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত বছর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও বর্তমানে শান্তি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে এই নাটকীয় ঘোষণা দিল গোষ্ঠীটি।

বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখাতে চায়, হামাস গাজা শাসন থেকে সরে আসতে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা পুনর্গঠনে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সোমবার (৭ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের মহাপরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা আল জাজিরাকে বলেন, আমরা আশা করি এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যা বন্ধ হবে, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত হবে এবং ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১,০০৫ জন নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩,০৯৮ ছাড়িয়েছে। বর্তমানে অবরুদ্ধ গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গাজার ক্ষমতা হস্তান্তর করা হচ্ছে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’-এর কাছে। ২০-দফা মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠিত হয়। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আলী আবদেল হামিদ শাথ।

তবে ইসরায়েল এখনো এই কমিটির সদস্যদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। বর্তমানে মিশরের কায়রো থেকে এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৭ সাল নাগাদ এই ক্ষমতা পশ্চিম তীরের ‘ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ’-এর কাছে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই প্রশাসনের মূল কাজ হবে বেসামরিক খাত, যেমন— স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা। পাশাপাশি একটি সুসংগঠিত পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়ে এনসিএজি প্রধান আলী শাথ এক বিবৃতিতে জানান, তারা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত, তবে এর জন্য গাজায় একক আইনি কাঠামো এবং একটিমাত্র জবাবদিহিমূলক নিরাপত্তা বাহিনী থাকার মতো ‘মৌলিক শর্ত’ পূরণ হতে হবে।

ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার দ্বিতীয় ধাপের শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর আগে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে হামাসের দাবি, ইসরায়েল নিজেই চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেনি।

সোমবারে দেওয়া ঘোষণায় হামাস সরাসরি নিরস্ত্রীকরণের কথা উল্লেখ না করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার হামাসের এই ঘোষণাকে একটি ‘চাল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘হামাস গাজায় হিজবুল্লাহ মডেলের পুনরাবৃত্তি করতে চায়। তারা আবর্জনা পরিষ্কার বা মিউনিসিপ্যাল কাজের জন্য টেকনোক্র্যাটদের বসাবে, কিন্তু মূল সামরিক শক্তি নিজেদের হাতেই রাখবে।’ ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া কোনো বেসামরিক সরকারকে তারা মেনে নেবে না।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দাবি করে আসছিল, হামাস গাজায় নিজেদের ক্ষমতা আরও শক্ত করছে এবং সময়ক্ষেপণ করছে। ইসরায়েলের এই দাবিকে কাউন্টার করতেই হামাস এই কৌশলগত চাল চেলেছে। তারা ট্রাম্পকে দেখাতে চায়, শান্তি প্রক্রিয়ার একমাত্র বাধা মূলত ইসরায়েল। এছাড়া, ইসরায়েল গাজার অধিকাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ‘নিউ রাফাহ’ নামক একটি ক্ষুদ্র অংশে ফিলিস্তিনিদের সীমাবদ্ধ রাখার যে পরিকল্পনা করছে, তা নস্যাৎ করতেই হামাস এই তড়িঘড়ি ঘোষণা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হামাসের এই ঘোষণার পর ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ জানিয়েছে, তারা এই ঘোষণাকে আমলে নিয়েছে, তবে কথার চেয়ে কাজের প্রতিফলন দেখতে চায়। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, গাজায় ‘একটি কর্তৃপক্ষ, একটি আইন এবং একটিমাত্র অস্ত্র’ নীতি বাস্তবায়িত হতে হবে, যার অর্থ সব অস্ত্র এনসিএজি-এর নিয়ন্ত্রণে যেতে হবে।

সূত্র: আলজাজিরা


সময়ের আলো/কহু


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: