যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ‘গুরুতর ও চরম লঙ্ঘনের’ তীব্র অভিযোগ তুলেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের রক্তচক্ষু ও সামরিক হুমকি উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আবেগঘন ও কড়া বার্তায় গালিবাফ পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাদাগিরি, গুন্ডামি আর চাঁদাবাজির দিন এখন শেষ। এসব করে ইরানকে দমানো যাবে না। আমরা মচকাব, তবু হার মানব না।
ইরানি এই শীর্ষ নেতার অভিযোগ, গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই তা সুকৌশলে লঙ্ঘন করে আসছে। তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেন। গালিবাফ দাবি করেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আইনসম্মত জলসীমা ও রুট পুনর্বিন্যাসের নিয়মকে তোয়াক্কা করছে না মার্কিন নৌবাহিনী। এর ওপর আবার দোসর ইসরায়েলকে দিয়ে দক্ষিণ লেবাননে অনবরত ‘বর্বরোচিত আগ্রাসন’ চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের শান্ত পরিবেশকে উসকে দিচ্ছে তারা।
পার্লামেন্ট স্পিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে শান্তি চুক্তির দোহাই দিয়ে তেহরানকে সংযত থাকার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষিণ ইরানে একের পর এক মার্কিন বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রির ওপর নতুন করে অন্যায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্ববাসীকে এক ধরনের ব্ল্যাকমেইল করছে ওয়াশিংটন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে শুল্ক বা ফি আদায় নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রেষারেষি এখন প্রকাশ্য যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত মাসে সম্পাদিত ৬০ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবার ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের গর্জনে ভারী হয়ে উঠেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত বোমাবর্ষণের হুমকি, অন্যদিকে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলা করছে।
সময়ের আলো/কহু