মধ্যপ্রাচ্যের চরম সামরিক উত্তেজনা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চরম ঘোষণায় বিশ্বজ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইরানের সঙ্গে শান্তি ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি (সমঝোতা স্মারক) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শেষ’ বলে ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বুধবার (৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে তেলের বাজার গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় এসে ঠেকেছে।
লন্ডন ও নিউ ইয়র্কের জ্বালানি পণ্য বাজার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৩.৮২ ডলার বা ৫.১৫% বেড়ে ৭৭.৯৮ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৩.৭০ ডলার বা ৫.২৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪.১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ২৩ জুনের পর জ্বালানি তেলের বাজারে এটিই সবচেয়ে বড় এবং দ্রুততম উল্লম্ফন।
গতকাল মঙ্গলবারই (৭ জুলাই) ওয়াশিংটন চুক্তি লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রির ওপেন লাইসেন্স বা বিশেষ ছাড় বাতিল করেছিল, যার ফলে সেদিনই তেলের দাম প্রায় ৩% বেড়েছিল। আজ আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রকাশ্যেই তেহরানের সাথে করা অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটিকে ‘মৃত’ ও ‘সময় নষ্ট’ বলে ঘোষণা দিলেন, তখন বাজারে সরবরাহ সংকটের আতঙ্ক বহুগুণ তীব্র হয়ে ওঠে। বিখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসইবি-এর প্রধান পণ্য বিশ্লেষক বিয়ারনে শিলড্রপ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ৬০ দিনের শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম খুব দ্রুতই প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের ঘর স্পর্শ করবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে কাতার ও সৌদি আরবের তেল ট্যাঙ্কারে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা এবং এর জবাবে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর পুরো রুটটি এখন রেড জোনে পরিণত হয়েছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘পিভিএম’ জানিয়েছে, ইরান ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তাদের নির্ধারিত ও সমন্বিত রুট ছাড়া হরমুজ প্রণালীতে অন্য কোনো পথ নিরাপদ নয়। এই হুশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক রুটের অন্তত ৪টি বিশাল তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার প্রণালীটি পার না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মাঝ-সাগর থেকেই নিজেদের পথ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট-এর সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অপরিশোধিত তেলের মজুদ গত সপ্তাহেও বড় ধরনের হ্রাসের সম্মুখীন হয়েছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন তেল মজুদ যেখানে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন ব্যারেল কমবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, প্রকৃত ঘাটতি তার চেয়েও বেশি দেখা গেছে।
সময়ের আলো/কহু