সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলার পর টাকা গণনার কাজ শুরু হয়, যা এখনও চলমান।
গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের একাধিক প্রতিনিধি।
প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনার ঠিক ১৯ দিনের ব্যবধানে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তদারকিতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে এবারের গণনা পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স বসানো হয় এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগচি ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
পরবর্তীতে ২২ জুন প্রায় সাতশ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে ঐতিহাসিক দানের ডেগচি ও দানবাক্স প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয়। সেদিনের গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রাও মেলে। ওই অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকেই এক মাসের মধ্যে স্বচ্ছ ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনার সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শাহজালাল মাজারে দানবাক্সের এই স্বচ্ছতা উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জেরেই বিতর্কের মুখে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে সম্প্রতি সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
সময়ের আলো/মহু