রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে আট দিন পর পুনরায় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলো সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। এর আগে ৭ জুলাই একই মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সই করা সর্বশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই জারি করা নির্দেশনা সংশোধন করে সাজেক ভ্যালিসহ বাঘাইছড়ি উপজেলার সব পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে জেলায় চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং জেলা প্রশাসনের সময়ে সময়ে জারি করা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, জেলা প্রশাসন সাজেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় তারা জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নোটিশ পাওয়ার পরই সংগঠনের ফেসবুক পেজে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুত হোটেল ও রিসোর্টে কক্ষ বুকিং শুরু হবে। তবে টানা আট দিন পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, সেটিও দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দেশের ভ্রমণপিপাসুদের বর্ষার সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গত ৭ জুলাই রাঙামাটিতে টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল এবং সড়কধসের কারণে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।
এদিকে, ভারী বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ৫৬১ জন পর্যটক আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাদের নিরাপদে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সাজেকে তেমন কোনো পর্যটক নেই।
সময়ের আলো/আনবিএন