রাজশাহীর বাগমারায় ছাত্রদলের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে যুবদলের এক নেতাকে পিটিয়ে জখম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
আহত আসাদুল ইসলাম (৩৮) উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা কমিটির সদস্য। তিনি ডিশ (ক্যাব্ল টিভি ও ইন্টারনেট) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
অভিযুক্তরা হলেন, নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজন। তাদের বাড়ি গোয়ালকান্দি ও হামিরকুৎসা ইউনিয়নে।
আহত আসাদুল ইসলামের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে গোয়ালকান্দি বাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন তিনি। রাত ১০টার দিকে পারভেজ রানার নেতৃত্বে চার-পাঁচজন ছাত্রদল নেতা তার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন। এ সময় ক্যাব্ল ব্যবসা নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতারা লাঠি ও রড দিয়ে আসাদুলকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে চলে যান। হামলার সময় পাশে থাকা আজাদ নামের এক তরুণ আসাদুলের মোবাইল ফোন দিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এসে আসাদুলকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
আহত আসাদুল ইসলামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর ও ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি পারভেজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এর জের ধরে ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা পারভেজ রানা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম হামিরকুৎসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত মোহাম্মদ আলী খামারুর ছোট মেয়ে ফাইমা আন্টির ডিশ ব্যবসা দখল করে নেন। এ নিয়ে একাধিকবার বসা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। গতকাল রাতে আসাদুল এই বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য ফাইমা আন্টিকে তার প্রতিষ্ঠানে ডেকে পাঠান। ফাইমা আন্টি আমাকে, সুমনকে ও শাহীনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। রাতে তার প্রতিষ্ঠানে আলাপ চলাকালে অন্যদের সঙ্গে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে মাত্র। পরবর্তীতে তিনি নিজেই তার ছেলেকে দিয়ে ফেসবুকে লাইভ করিয়ে মিথ্যা ঘটনা প্রচার করছেন।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনও কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ বা মামলা করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই