বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের সামনে শুধু দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সুযোগ নয়। আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে এমন একটি ইতিহাস গড়বে তারা, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে আগে কোনো দেশ করতে পারেনি। একই সময়ে স্পেন নারী ও পুরুষদের বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হবে।
২০২৩ নারী বিশ্বকাপের শিরোপা এখনো স্পেনের দখলে। সিডনিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার নারী বিশ্বকাপ জিতেছিল দেশটি। ওলগা কারমোনা ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন সেসময়।
পরবর্তী নারী বিশ্বকাপ হবে ২০২৭ সালে ব্রাজিলে। ফলে ২০২৬ পুরুষ বিশ্বকাপ জিততে পারলে অন্তত এক বছর একই দেশের ঘরে থাকবে নারী ও পুরুষদের ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুটি শিরোপা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগে বিশ্বকাপ জেতা দেশের তালিকাতেও রয়েছে শুধু স্পেন ও জার্মানি। জার্মানির পুরুষ দল বিশ্বকাপ জিতেছে ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে।
দেশটির নারী দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০৩ ও ২০০৭ সালে। তবে একই সময়ে দুটি শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি তারা।
এদিকে, স্পেনের পুরুষ দল প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০১০ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লা রোহা। এবার নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে তারা।
স্পেনের নারী ফুটবলের সাফল্য শুধু সিনিয়র দলেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৩ সালে দেশটি একই সময়ে সিনিয়র, অনূর্ধ্ব-২০ এবং অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে অনন্য কীর্তি গড়েছিল। এবার যদি পুরুষদের বিশ্বকাপও স্পেনের ঘরে ওঠে, তবে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হবে আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
তবে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দলও টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। ফলে নিউ জার্সির ফাইনাল শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং দুই ভিন্ন ঐতিহাসিক অর্জনের লড়াই হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ