নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসজুড়ে তখন শুধু হতাশার ছায়া। মাঠের এক কোণে মাথা নিচু করে বসে ছিলেন লিওনেল মেসি। চোখে অশ্রু, মনে অসীম শূন্যতা। কখনো নিচের ঘাসের দিকে তাকাচ্ছেন, আবার কখনো দূরে রাখা রুপালি ট্রফিটির দিকে। যে ট্রফি আরেকবার তার হাতছাড়া হয়েছে।
সময়টা ২০১৬ সালের ২৬ জুন। কোপা আমেরিকার ফাইনালে টাইব্রেকারে চিলির কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই টাইব্রেকারে নিজের শটটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছিলেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে সেটিই ছিল তার টানা চতুর্থ বড় ফাইনালে পরাজয়।
একটির পর একটি ব্যর্থতা যেন তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার জার্সিতে শিরোপা জেতা বুঝি তার ভাগ্যেই নেই। সেই গভীর হতাশা থেকেই বিশ্বকে অবাক করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দেন তিনি। কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দিয়ে মেসি বলেছিলেন, জাতীয় দলের অধ্যায় সম্ভবত এখানেই শেষ।
তবে সেই বিদায় স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা আর অসমাপ্ত স্বপ্ন তাকে আবার ফিরিয়ে আনে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে। সব সমালোচনা, ব্যর্থতা আর হতাশাকে সঙ্গী করেই আবার শুরু করেন নতুন পথচলা। এরপর যেন বদলে যায় সবকিছু।
২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে জাতীয় দলের দীর্ঘ ট্রফিখরা কাটান মেসি। এরপর ২০২২ সালে ফিনালিসিমা, একই বছরের কাতার বিশ্বকাপ—একের পর এক অধরা স্বপ্ন ধরা দেয় তার হাতে। যে আন্তর্জাতিক শিরোপার অভাব নিয়ে বছরের পর বছর তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, সেই অপূর্ণতাই একসময় পরিণত হয় তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ে।
আজ, ঠিক এক দশক পর, আবারও সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিরছেন মেসি। তবে এবার চোখে জল নিয়ে নয়, বিদায়ের ঘোষণা দিতে নয়। এবার তিনি মাঠে নামবেন আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্পেন, আর সামনে ইতিহাস গড়ার আরেকটি সুযোগ।
ফুটবল কখনো কখনো অবিশ্বাস্য সব গল্প লিখে। যে মাঠে একদিন মনে হয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন মেসি, ঠিক সেই মাঠই হয়তো আজ তাঁর ফুটবল জীবনের সবচেয়ে রাজকীয় সমাপ্তির মঞ্চ হতে চলেছে। ২০১৬ সালের কান্নাভেজা সেই রাতের স্মৃতি মুছে দিয়ে মেটলাইফ কি এবার সাক্ষী হবে আরেকটি অমর মুহূর্তের? উত্তর মিলবে ফাইনালের ৯০ মিনিটেই।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ