ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, তখন বাংলাদেশের ফুটবলাঙ্গনের জন্যও এসেছে গর্বের এক উপলক্ষ। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জর্ডানের আদহাম মাখাদমেহ। আর তার এই অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের কিংবদন্তি রেফারি তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামানের একটি স্মরণীয় অধ্যায়।
এই গল্পের শুরু ২০১৩ সালে। নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ এশিয়ার রেফারি হিসেবে প্রথমবারের মতো ফাইনাল পরিচালনার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের ফিফা এলিট রেফারি তৈয়ব হাসান। সেই ম্যাচেই চতুর্থ রেফারি ছিলেন তরুণ আদহাম মাখাদমেহ।
সাফের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পাওয়া—মাখাদমেহর এই পথচলা এশিয়ার রেফারিংয়ের জন্যই একটি অনুপ্রেরণার গল্প। সাবেক সহকর্মীর এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তৈয়ব হাসান বলেন, ‘আদহামের এই অর্জন গোটা এশিয়ার রেফারিংয়ের জন্য বড় স্বীকৃতি। খবরটি শোনার পরই ২০১৩ সালের সাফ ফাইনালের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। তখনও সে তরুণ ছিল, কিন্তু শেখার আগ্রহ ছিল অসাধারণ। আমার সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করা ছেলেটিই আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করবে—এটা একজন অগ্রজ হিসেবে আমার জন্য দারুণ আনন্দের। আমি বিশ্বাস করি, তার এই সাফল্য আমাদের অঞ্চলের তরুণ রেফারিদের স্বপ্ন দেখাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাফের মঞ্চ থেকেও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো সম্ভব—আদহাম সেটিই প্রমাণ করেছে।’
দেশের রেফারিং ইতিহাসের অন্যতম সফল নাম তৈয়ব হাসান পেশায় একজন শিক্ষক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও শিকড়ের টানেই তিনি বসবাস করেন উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায়।
যদিও এখনো দক্ষিণ এশিয়ার কোনো রেফারি বিশ্বকাপের মূল পর্বে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাননি, তবু এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের বহু টুর্নামেন্টে বিশ্বমানের রেফারিদের সঙ্গে সমানতালে দায়িত্ব পালন করেছেন তৈয়ব হাসান। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ডও তার দখলে। টানা ১৮ বছর ফিফা রেফারি এবং ১০ বছর এএফসি এলিট প্যানেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের রেফারিংকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।
সময়ের আলো/এসএকে