বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে স্পেন। দীর্ঘদিনের ফুটবল দর্শন, পরিকল্পিত কাঠামো, তরুণ প্রতিভার বিকাশ এবং দলীয় সমন্বয়ের অসাধারণ প্রদর্শনে শিরোপা জয়ের পর লা রোজাদের ঘিরে ফুটবল বিশ্বে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। সাবেক তারকা ফুটবলার, বিশ্বকাপজয়ী কোচ এবং বর্তমান দলের সদস্যরা মনে করছেন, এই সাফল্য কোনো একক খেলোয়াড়ের কৃতিত্ব নয় বরং এটি একটি সুসংগঠিত দলের সম্মিলিত অর্জন।
স্পেনের ফুটবলের পরিচিত বৈশিষ্ট্য বল দখলে আধিপত্য, দ্রুত পাসিং, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং টেকনিক্যাল দক্ষতা বিশ্বকাপেও তাদের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল। তবে এবারের দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের ভারসাম্য। তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বড় মঞ্চে পারফর্ম করা এবং অভিজ্ঞদের নেতৃত্বে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা স্পেনকে আলাদা করে তুলেছে।
বিশ্বকাপজয়ী সাবেক স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কে বরাবরই দলগত ফুটবলের গুরুত্বের কথা বলে এসেছেন। ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি নিজের দলের প্রশংসা করে বলেছিলেন, আমি এই অসাধারণ খেলোয়াড়দের কাছে ঋণী। তারা এই সাফল্যের মূল্য বোঝে, কারণ আমরা একটি দল হিসেবে এবং সেরা মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে এটি অর্জন করেছি।
দেল বস্কের এই বক্তব্যের মধ্যেই ফুটে ওঠে স্পেনের ফুটবল দর্শনের মূল বিষয় একজন খেলোয়াড় নয়, পুরো দল মিলে সাফল্য তৈরি করে। তার মতে, বড় কোনো টুর্নামেন্ট জিততে হলে প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং কঠিন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে লড়াই করার মানসিকতা। বর্তমান স্পেন দলেও তিনি সেই ধারাবাহিকতার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন।
বর্তমান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে দলের সাফল্যের পেছনে খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও পরিশ্রমকে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই খেলোয়াড়রা সবকিছুর যোগ্য। প্রতিদিন তারা প্রতিশ্রুতি, উদারতা, সংহতি ও প্রতিভা দেখায়।
দে লা ফুয়েন্তের মতে, শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকলেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় না। প্রয়োজন একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা, দলের মধ্যে বিশ্বাস এবং একই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। তার অধীনে স্পেনের খেলোয়াড়রা সেই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছে এবং নিজেদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ প্রমাণ দিয়েছে।
ফাইনালে পরাজিত আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি