যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন সামরিক পদক্ষেপ ও জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) টানা দশম রাতের মতো ইরানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন কয়েকটি স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করার কথাও জানিয়েছে তারা।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া একটি প্রজেক্টাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলেও। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের সাতটি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে নিজেদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হওয়ায় বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে এবং এই অঞ্চলে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এয়ার ফ্রান্স সাময়িকভাবে দুবাই ও রিয়াদে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। পাশাপাশি বৈরুতে ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও আরও বাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ভ্রমণের সময় পরিবর্তন বা বাতিলের সুযোগ পাবেন।
সূত্র: গালফ নিউজ
সময়ের আলো/এমকে