ঢাকার নবাবগঞ্জে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সুজন, জুলহাস ও মোহাম্মদ।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম জর্জ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (কালেক্টর)-কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
তিনি আরও জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে জুলহাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপর দুই আসামি সুজন ও মোহাম্মদ জামিনে ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগী তার আট বছর বয়সী ফুপাতো বোনকে বাড়ির পেছনে পাটকাঠির বেড়ার টয়লেটে নিয়ে যান। ফুপাতো বোনকে টয়লেটে বসিয়ে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে পৌঁছালে আসামি সুজন পেছন থেকে তাকে জাপটে ধরে মুখ চেপে বাড়ির পেছনের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল আসামি জুলহাস ও মোহাম্মদ। পরে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে একটি বোরো ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নবাবগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ জুলাই নবাবগঞ্জ থানার এসআই এস এম মিরাজ আল মাহমুদ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেন।
সময়ের আলো/আরবিএন