কে এই সৈনিক লীগের বেকারী কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় বিগত যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক

2026-07-22T20:48:44+00:00
2026-07-22T21:14:42+00:00
 
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজ নিয়ে হইচই
কে এই সৈনিক লীগের বেকারী কামাল
কামাল হোসেন গণদলের ভাইস চেয়ারম্যান, কিন্তু মাঝে তিনি সৈনিক লীগে যুক্ত হন : দাবি গোলাম মওলার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম  আপডেট: ২২.০৭.২০২৬ ৯:১৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও কামাল হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় বিগত যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতাদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রিত অতিথির কাতারে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর সৈনিক লীগের সভাপতি কামাল হোসেন। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর করমর্দনের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নানা মহলে চলছে সমালোচনা। বিএনপির জোটশরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। 

এ প্রসঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সক্রিয় নেতা ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সময়ের আলোকে বলেন, তারমতো ফ্যাসিস্ট, তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তিকারী কীভাবে যমুনায় গেল? তিনি কখনও বিএনপি জোটের শরিক ছিলেন না। কি ২০ দল কি ১৮ দলীয় জোট কোথাও ছিলেন না এই লোক। যারা দাওয়াত দিয়েছেন তাদের আরও পর্যবেক্ষণ করা উচিত ছিল। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের মতো অত্যন্ত সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থানে চিহ্নিত কোনো অপরাধী ও পতিত স্বৈরাচারের দোসর প্রবেশ করা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। পরিচয় গোপন রাখতে এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তাকে ঢোকানোর পেছনে যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অসাধু চক্র কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। 

কামাল হোসেনের উপস্থিতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর পতিত স্বৈরাচার সরকারের দোসর ও বিতর্কিত এক রাজনৈতিক কর্মী কীভাবে রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশের সুযোগ পেলেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রমতে, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের চট্টগ্রাম নগরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন। এই কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীতে মদ, জুয়া, নারী ব্যবসাসহ ও মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি এসব অপকর্ম পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম থেকে গা-ঢাকা দেন বেকারী কামাল। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান নিয়ে নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত শুরু করেন।

এছাড়া বর্তমানে কামাল হোসেন নিজেকে দৈনিক ভোরের আওয়াজ নামে একটি পত্রিকার চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যুরো চিফ এবং ডেইলি টুরিস্ট পত্রিকার ডেপুটি এডিটর হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিতির্কত এই কামাল হোসেন গণদলের ভাইস চেয়ারম্যান। গণদল জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শরিক। যারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনে ছিল। গণদলের চেয়ারম্যান ও সমমনা জোটের সমন্বয়ক এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, কামাল হোসেন গণদলের ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি ২০২১ সালে এই দলের যুক্ত হন। কিন্তু মাঝে ২০২৪ সালে তিনি সৈনিক লীগে যুক্ত হন। চট্টগ্রামে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল কটূক্তিগুলো এআই প্রযুক্তি সহায়তায় করা।  

অভিযোগ প্রসঙ্গে কামাল হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ‘ফেসবুকে চক্রান্ত করে মনগড়া মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর সত্যতা নেই। তবে আমি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের দায়িত্বে ছিলাম কিছুদিন। নব্বইয়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আমি ছাত্রদল করেছি।’

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   রাজনীতি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: