নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের সুপারিশের কারণে ভোট পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, আইন সংশোধনের সঙ্গে নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো সংশোধন হয়, সে আইনেই বলা থাকবে যে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে। আর যদি সংশোধন নাও হয়, বিদ্যমান আইন তো রয়েছেই। এই মুহূর্তে যেই আইন রয়েছে, সেটিও দুর্বল না। এই আইন দিয়েও নির্বাচন করা সম্ভব।
আমরা চিন্তা করেছি, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তিতে কিছু কনফিউশন ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেই জিনিসগুলো যাতে এভয়েড করা যায়, সে জন্য কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে আইন সংশোধন হলে সেই অনুযায়ী হবে, না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী হবে। এতে করে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।
ইসির আইন সংশোধনের সুপারিশমালায় পদে থেকে প্রশাসকদের নির্বাচন না করার বিষয়টি রয়েছে। যদি বিদ্যমান আইনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, তবে কি প্রশাসকরা আদৌ নির্বাচন করতে পারবেন কি না জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এমপিদের ক্ষেত্রে এটা পরিষ্কার বাধা, কিন্তু সিটি করপোরেশনের মেয়রদের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা আছে। এটাই তো বড় অসঙ্গতি। সিটি করপোরেশনের মেয়র একজন মন্ত্রীর পদমর্যাদা পান, অথচ সেখানে নিয়ম ভিন্ন। সেজন্যই তো আমরা বলছি, এ বিষয়ে আইন সংশোধন করা দরকার। তবে যে আইনেই নির্বাচন হোক, বিষয়টা যাতে পরিষ্কার হয়, সেই ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন করবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমরা প্রস্তুত। আমরা আশা রাখি যে অক্টোবরে হয়তো প্রথম ধাপের নির্বাচন আমরা করতে পারব। এ উপলক্ষে আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে পারব। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো একাধিক ধাপে ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। আমরা কম সময়ে যাতে বেশি নির্বাচন করা যায়, সে পরিকল্পনা করছি।
প্রথম ধাপে কোন নির্বাচন হবে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, যেসব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নাই, আইনগতভাবে মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেব। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে, তা আমি নির্দিষ্ট করে বলব না। আইনশৃঙ্খলা শতভাগ নিশ্চিত করে যে যে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ওঠানো সম্ভব হবে, সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে আগে করব। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদা আলাদা ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি কোনো যোগাযোগ এখনো হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ থাকবেই।
তিনি স্থানীয় সরকারের সব আইনের সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করার সুপারিশের বিষয়ে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেটাকে সামনে রেখে আমরা যে যে স্টেপ নিয়ে সফল হয়েছে, সেই স্টেপগুলো এখানেও নেব। প্রয়োজনে এর চেয়েও বাড়তি স্টেপ নেব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে নির্বাচনে যে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছি, তার কোয়ালিটি যাতে উত্তরোত্তর আরও ভালো হয়।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন।
এ রুলের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি আনোয়ারুল বলেন, প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এটা আগে দেখতে হবে। দেখার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কী অবস্থা আছে এবং এই সম্পর্কিত আর কোনো আইনের রুলিং বা জাজমেন্ট আছে কি না, সেগুলো দেখে পরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ