‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায় বর্তমান সরকার’

রফিক রাফি

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং

2026-07-23T01:06:02+00:00
2026-07-23T01:09:18+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায় বর্তমান সরকার’
রফিক রাফি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:০৬ এএম  আপডেট: ২৩.০৭.২০২৬ ১:০৯ এএম
মাহদী আমিন। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, নতুন শ্রমবাজার, গণমাধ্যম, গুজব ও অপ্রচারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি।

সময়ের আলো : বিগত সরকারের সময় আমরা দেখেছি, গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে সংবাদমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করছে। সরকার এটিকে কীভাবে দেখছে?

মাহদী আমিন : আমরা এটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। আমাদের বিশ্বাস গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যেও বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। 

গণমাধ্যমের পাশাপাশি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার দেখা যাচ্ছে। সরকারও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এটি মোকাবিলায় পরিকল্পনা কী?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা নতুন কোনো বিষয় নয়। নির্বাচনের আগে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও আমরা এ ধরনের ঘটনা দেখেছি, এখনও কিছু ক্ষেত্রে তা চলমান। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা থাকবে। তবে সেই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও জরুরি। 

যারা গুজব বা অপতথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা বা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি?

এ বিষয়ে সরকারের কাজ চলমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সংসদে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

জাতীয় শিক্ষাক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী?

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি প্রচারের সময়ই বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সরকার শিক্ষা কার্যক্রমে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। 

আমরা ইতিমধ্যে জানিয়েছি, বর্তমান পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে যেখানে পরিবর্তন, সংযোজন বা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো করা হবে। পাশাপাশি চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষা। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা হবে দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোন বৈশিষ্ট্যটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে? 

গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় ইতিহাসের বৃহত্তম সব শ্রেণিপেশার মানুষের ঢল নেমেছিল। এটি তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার প্রকাশ এবং এটি তার সবচেয়ে বড় নেতৃত্বের প্রতিফলন। তিনি প্রায় ৩৮ বছর ধরে প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে জড়িত। এই সময়ে তিনি বারবার তৃণমূলের মানুষের কাছে গেছেন, তাদের কথা শুনেছেন এবং তাদের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যা বোঝার এবং সেগুলো সমাধানে কাজ করার কথা বলে আসছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষে এসেও তিনি সেই তৃণমূলের ক্ষমতায়নের জন্যই অবিরত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। আমার দৃষ্টিতে তৃণমূলের নেতা হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও গণমানুষের কল্যাণের জন্য তার যে রাজনীতি এবং তার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে।

দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকারের কী পরিকল্পনা রয়েছে?

কর্মসংস্থান একটি বহুমাত্রিক বিষয়। তাই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে এ নিয়ে কাজ করছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যাতে তরুণরা কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। একই সঙ্গে বন্ধ শিল্প-কারখানা চালু করা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও স্বল্পসুদে ঋণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নতুন উদ্যোগ নিতে পারেন। বিএনপি সরকারে আসা এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর করলেন মালয়েশিয়া ও চীন। 

সেখানে আপনিও ছিলেন। এই সফরকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? 

সফরটি স্বল্প সময়ের হলেও অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। তিনি প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চীনে যান। চীনে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নেন। সেখানে আরও সাতটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারেক রহমান চীনের সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে মিটিং করেছেন। 

প্রত্যেকটা মিটিংয়ে একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে গভীর শ্রদ্ধা এবং সম্মানের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরা গ্রহণ করেছেন। মালয়েশিয়া এবং চীনে তাকে যেভাবে লালগালিচা সংবর্ধনা ও পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও মহিমান্বিত হয়ে ওঠে। মালয়েশিয়া এবং চীনে তার যতগুলো মিটিং হয়েছে, তিনি সবসময় বাংলাদেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্ব প্রাধান্য দিয়েছেন। 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা নিয়ে সফরে আলোচনা হয়েছে। এটি কবে নাগাদ খুলতে পারে?

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শুধু শ্রমবাজার নয়, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করা, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রফতানি-আমদানি বৃদ্ধির বিষয়েও কথা হয়েছে। অতীতেও বিএনপি সরকার বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও বন্ধ বাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও দ্রুত অগ্রগতি হবে বলে আমরা আশা করছি।

এ বছরের মধ্যে কি সম্ভাবনা আছে? 

অবশ্যই আমরা আশাবাদী। অবশ্যই খুব দ্রুততম সময়ে সেটি করার জন্য মালয়েশিয়ান সরকারকে প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন; সেটা কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি, দেখেছি।

নতুন শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী?

দেশ থেকে বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। আমরা এখন এমন নতুন নতুন দেশের শ্রমবাজার খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি, যেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনের মতো দেশগুলোতে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার অভাবে আমাদের কর্মীরা পিছিয়ে থাকেন। তাই ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদের জন্য এসব দেশে যাওয়ার সুযোগ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

যারা বিদেশে কাজ করছে তাদের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কী করবে? 

শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যে বিদেশে আমাদের দূতাবাসগুলোকে আরও বেশি শ্রমিকবান্ধব হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সমস্যা সমাধান হওয়া শুরু হয়েছে। শ্রমিক মারা গেলে মরদেহ হস্তান্তরে যে সমস্যা ছিল সেগুলো সমাধান করছি। বিমানভাড়া কমাতে কিছু কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছি এবং সমষ্টিগত আমাদের একটা পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মাসে প্রাথমিকভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু হবে। 

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সমস্যা হলো দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারা। পাশাপাশি কিছু ট্রাভেল এজেন্সির প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী?

এ ক্ষেত্রে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু হলে একটি নতুন ব্যবস্থাপনা তৈরি হবে। বিদেশে যাওয়ার আগে বা যাওয়ার পর কর্মীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা তৈরি হবে। এতে কর্মীরা যেকোনো সমস্যায় সহজে সহযোগিতা চাইতে পারবেন এবং সরকারও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। আর যারা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণা করে, জালিয়াতি করে বা বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তরুণদের জন্য আপনার বার্তা কী? আগামী পাঁচ বছরে তারা সরকারের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করতে পারে?

তরুণদের জন্য আমাদের সবচেয়ে বড় বার্তা হলো দেশে প্রত্যেক তরুণের জন্য আমরা সুযোগ তৈরি করতে চাই। যার যে বিষয়ে আগ্রহ, যে পেশায় যেতে চায়, সে অনুযায়ী নিজের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ পাবে এমন একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আরবিএন 



  বিষয়:   মাহদী আমিন  গণমাধ্যম  স্বাধীনতা  সরকার 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: