দেশে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত হয়ে আসা ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা বর্তমানে গভীর সংকটের মুখোমুখি। সাম্প্রতিককালে এই খাতে একদিকে আস্থার সংকট ও তারল্য ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করছে, অন্যদিকে তাত্ত্বিক ও আদর্শিক ভিত্তি নিয়েও উঠছে বড় ধরনের প্রশ্ন। সম্প্রতি ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে।
এ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞরা এক চরম উদ্বেগজনক বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন- তা হলো দেশের ইসলামিক ব্যাংকগুলোতে প্রকৃত অংশীদারিত্বমূলক ও কল্যাণমুখী ব্যাংকিং ব্যবস্থার চরম অবক্ষয় ঘটেছে। যে ‘লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি’ (পিএলএস) নীতিকে পুঁজি করে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল তা এখন কেবলই প্রচারপত্র আর তাত্ত্বিক বইয়ের পাতায়, অর্থাৎ ‘কাগজেই সীমাবদ্ধ’ হয়ে পড়েছে। বাস্তব অনুশীলনে তা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগির করুণ দশা : এক শতাংশের নিচে প্রকৃত শরিয়া বিনিয়োগ
ইসলামিক অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের আসল প্রাণশক্তি এবং আদর্শিক শ্রেষ্ঠত্ব লুকিয়ে থাকে দুটি পদ্ধতিতে- মুদারাবা (যেখানে ব্যাংক পুঁজি দেয় এবং গ্রাহক মেধা ও শ্রম দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে লাভ-ক্ষতি ভাগ করে নেন) এবং মুশারাকা (যেখানে ব্যাংক ও গ্রাহক যৌথভাবে পুঁজি ও শ্রম দিয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করে)। এই দুটি পদ্ধতিই একটি সমাজ থেকে সুদের অভিশাপ দূর করে ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টন নিশ্চিত করতে পারে।
কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং হতাশার চিত্র তুলে ধরছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট বিনিয়োগের মধ্যে মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের হার মাত্র ০.৫৫ শতাংশ এবং মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের হার আরও করুণ, মাত্র ০.১৭ শতাংশ। অর্থাৎ এই দুটি খাঁটি অংশীদারিত্বমূলক পদ্ধতিতে সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ মোট বিনিয়োগের ১ শতাংশেরও কম (মাত্র ০.৭২ শতাংশ)। সাধারণ মানুষ যে বিশ্বাস ও প্রত্যাশা নিয়ে সুদবিহীন অংশীদারিত্বের আশায় এসব ব্যাংকে টাকা রাখেন, বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের ঋণভিত্তিক মডেল অনুসরণে ক্রয়-বিক্রয়
প্রকৃত অংশীদারিত্বমূলক বিনিয়োগে ঝুঁকি এড়াতে দেশের ইসলামিক ব্যাংকগুলো এখন মূলত প্রচলিত ব্যাংকের মতোই ‘ঋণ ও সুদ’ মডেলের আদলে চলতে শুরু করেছে, যা শরিয়াহ পরিভাষায় ‘ডেট-বেসড’ বা ঋণভিত্তিক মডেল নামে পরিচিত।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইসলামিক ব্যাংকগুলোর মোট বিনিয়োগের সিংহভাগই দখল করে রেখেছে মূলত দুটি পদ্ধতি- বাই-মুরাবাহা (মোট বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ৪৯.৬০ শতাংশ) এবং বাই-মুয়াজ্জাল (মোট বিনিয়োগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯.২৯ শতাংশ)। এই দুটি পদ্ধতিতে যৌথভাবে প্রায় ৬৯ শতাংশ (৬৮.৮৯ শতাংশ) বিনিয়োগ করা হয়েছে। শরিয়াহ পরিভাষায় ‘বাই-মুরাবাহা’ হলো লাভসহ ক্রয়-বিক্রয় এবং ‘বাই-মুয়াজ্জাল’ হলো বাকিতে বিক্রয়। তাত্ত্বিকভাবে এগুলো শরিয়াহসম্মত হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কোনো পণ্য সরাসরি কেনাবেচা করে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো গ্রাহককে অর্থ দিয়ে দেয় এবং কাগজপত্রে তা পণ্য ক্রয়ের হিসাব দেখিয়ে পূর্বনির্ধারিত মুনাফা যোগ করে আসল ও লাভ একসঙ্গে আদায় করে। এটি আদতে সাধারণ ব্যাংকের ওভারড্রাফট বা সিলিং হাইপোর একটি ছদ্মরূপ মাত্র। এখানে ঝুঁকি অংশীদারিত্বের কোনো বালাই নেই। ব্যাংকগুলো মূলত মুনাফার নিশ্চিতকরণ লোভে এবং ব্যবসার ঝুঁকি এড়াতে এই সহজ পথ বেছে নিচ্ছে। এ ধরনের বিনিয়োগ শরিয়াহ নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি নগদ টাকা দেওয়া এবং এর কার্যকারিতা প্রসঙ্গে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ডেপুটি চিফ অব ইসলামিক ব্যাংকিং একেএম মীজানুর রহমান বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে মুরাবাহা হচ্ছে কেনাবেচা। একটা পণ্য আপনি আগে ক্রয় করবেন, ক্রয় করার পরে এটার মালিকানা নেবেন, তারপরে আপনি এটা বিক্রি করবেন। এখন কাস্টমারের অ্যাকাউন্টে যদি ক্যাশ দেন, সেই ক্যাশের বিপরীতে যদি আদৌ কোন কেনাবেচা না হয় তা হলে এটা সুদের চেয়েও খারাপ। কেন খারাপ? সুদ যারা নেয় তারা তো একটা ডিক্লারেশন দিয়ে নেয় যে, তারা গ্রাহককে লোন দিচ্ছে সেটার বিপরীতে সুদ নিচ্ছে। আর ইসলামি ব্যাংকগুলো যদি কেনাবেচার নাম দিয়ে গ্রাহককে বায়িং এজেন্ট নিয়োগ করে তার অ্যাকাউন্টে টাকা দেয়, আদৌ এখানে মাল কেনাবেচা হলো কি না তা নিশ্চিত না করে, শরিয়াহর নীতিমালা অনুসরণ না করে এখানে শুধু টাকা দিয়ে চুপ করে বসে থাকে আর মাসে মাসে মুনাফার নামে কিছু পয়সা নিয়ে নেয়, তা হলে এটা পুরোপুরি শরিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ।’
তিনি আরও বলেন, অনেক ব্যাংক এমটিডিআরের বিপরীতে সরাসরি লোন দেয়, যা শরিয়াহর দৃষ্টিতে প্রশ্নবোধক।
তিনি বলেন, কার টাকা আপনি কাকে লোন দিচ্ছেন? গ্রাহকের টাকা তো তাকে লোন দিতে পারেন না। এটার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক উইথড্রয়াল ফ্যাসিলিটি চালু করেছে, যা শরিয়াহ অনুমোদিত।
প্রফিট রেট ও ওয়েটজ নিয়ে অপচর্চা
ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের বড় শর্ত হলো লেনদেন থেকে রিবা (সুদ), গারার (অস্পষ্টতা) এবং মাইসির (জুয়া) শতভাগ দূর করা। কিন্তু অনেক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরমে পিএসআর (মুনাফা ভাগাভাগির অনুপাত) এবং ওয়েটজ উল্লেখ করে না, যা শরিয়া পরিপালনের ক্ষেত্রে একটি বড় ঘাটতি।
প্রভিশনাল রেট বা সাময়িক মুনাফার হারকেই অনেক সময় ফাইনাল রেট হিসেবে গ্রাহকদের ধরিয়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসলামিক ব্যাংকার একে ‘অপচর্চা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আসলে এই যে চর্চা এবং আমি বলব যে এটা একটা অপচর্চা। এই অপচর্চাটাই ইসলামি ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রভিশনাল রেটটাকে ফাইনাল করে দেওয়াটা শরিয়তে প্রশ্নবিদ্ধ। কাস্টমারকে অবশ্যই জানতে হবে, ব্যাংক যে ফর্মুলায় প্রফিট শেয়ার করতে চেয়েছিল এটা তার বাইরে, এটা একটা হিবা (উপহার)। এই ডিক্লারেশনটা আমি বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট চেক করে গিফট বা হিবা নামক কোনো হেড আমি এখন পর্যন্ত খুঁজে পাইনি।’
অবক্ষয়ের নেপথ্যে নীতিনির্ধারক ও ব্যাংকারদের চরম অনীহা
ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার এই আদর্শিক বিচ্যুতির পেছনে ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও মানসিকতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি ইসলামিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘মুদারাবা বা মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করতে গেলে গ্রাহকের সততা, ব্যবসার স্বচ্ছতা এবং নিখুঁত হিসাব ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।
আমাদের দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এখনও দ্বৈত হিসাব খাতা বজায় রাখার প্রবণতা রয়েছে। ফলে প্রকৃত লাভ বা লোকসানের হিসাব বের করা কঠিন। লোকসান হলে ব্যাংককে সেই লোকসান বহন করতে হয়। কোনো ব্যাংকই এই ঝুঁকি নিতে চায় না। তাই আমরা কাগজের দলিলে ‘মুরাবাহা’ বা ‘এইচপিএসএম’ (১৬.৯৩ শতাংশ) পদ্ধতিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, যেখানে লাভ সুনির্দিষ্ট এবং ঝুঁকি নেই বললেই চলে।’
শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত একটি ‘সহজ ও ঝুঁকিহীন’ পথ খোঁজার মানসিকতা। ব্যাংকগুলোর নিজস্ব কোনো দক্ষ অডিট দল নেই যারা গ্রাহকের ব্যবসা সশরীরে তদারকি করে লাভ-ক্ষতির অংশীদার হতে পারে। ফলে যুগের পর যুগ ধরে অংশীদারিত্বের সেøাগান দিয়ে আদতে সাধারণ সুদি ব্যাংকের মতোই নির্দিষ্ট হারের মুনাফার ব্যবসা চালানো হচ্ছে।
পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক শরিয়া বোর্ডের সদস্য শাহ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ‘সব জায়গায় ঝামেলার মূল কারণ হলো জ্ঞানের অভাব। আমাদের প্রফেশনালদের জন্য জ্ঞানের বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, মাদরাসা বা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়; কোনো স্তরেই সিলেবাসে মুদারাবা, মুরাবাহা বা মুশারাকার মতো বিষয়গুলো প্র্যাক্টিক্যালি পড়ানো হয় না। ফলে এই সেক্টরে ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দক্ষ প্রফেশনাল পাওয়া যায় না। গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ইসলামি উইন্ডো ও শাখার ব্যাপক বিস্তার ঘটলেও অনেকেই প্রচলিত ব্যাংক থেকে এসে সরাসরি কাজ শুরু করছেন, যে কারণে সঠিক শরিয়াহ প্রিন্সিপাল বোঝার ক্ষেত্রে বড় ধরনের গ্যাপ বা ফাঁক থেকে যাচ্ছে।
বিনিয়োগ কেন্দ্রীভূতকরণ : কৃষি খাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উপেক্ষিত
ইসলামিক অর্থনীতির অন্যতম লক্ষ্য হলো ধনীদের হাত থেকে সম্পদকে সমাজের নিচু স্তরে প্রবাহিত করা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ইসলামিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বণ্টন ব্যবস্থার মধ্যেও চরম বৈষম্য ও কেন্দ্রীকরণ বিদ্যমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট বিনিয়োগের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে মাত্র দুটি খাতেÑ বৃহৎ শিল্প এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহৎ শিল্প খাতে মোট বিনিয়োগের ৩৯.৯৭ শতাংশ এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে মোট বিনিয়োগের ৩৩.১২ শতাংশ বিনিয়োগ রয়েছে।
অর্থাৎ দেশের মোট বিনিয়োগের ৭৩.০৯ শতাংশই কুক্ষিগত করে রেখেছে বড় বড় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো। অথচ দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত, সেবা খাত ও কৃষি-বনায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৭.৪৩ শতাংশ। এ ছাড়া সেবা খাতে ৩.১৬ শতাংশ এবং কৃষি, মৎস্য ও বনায়ন খাতে মাত্র ১.৮২ শতাংশ বিনিয়োগ করা হয়েছে।
বড় করপোরেট গ্রুপগুলোকে হাজার হাজার কোটি টাকা নামমাত্র কাগজের দলিলে ‘শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ’ হিসেবে দেওয়া হলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি কিংবা কৃষকদের অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ নেই বললেই চলে। এই ঋণ কেন্দ্রীকরণের ফলেই সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বড় শিল্প গ্রুপ বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছে।
আস্থার সংকট ও তারল্য বিপর্যয়
প্রকৃত শরিয়াহ নীতি থেকে সরে এসে ঋণের কেন্দ্রীকরণ ও মুরাবাহার নামে করপোরেট গ্রুপগুলোকে ঢালাও সুবিধা দেওয়ার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে এখন এই খাতকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামি ব্যাংকিং খাতের ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় এই খাত বর্তমানে তারল্য চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আস্থার সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষ ইসলামিক ব্যাংকগুলো থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইসলামিক ব্যাংকিং খাতের আমানত আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। আমানত কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যও কিছুটা (১৮৮ কোটি টাকা) হ্রাস পেয়ে ১৯ হাজার ২০৪ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয়েছিল যে, গ্রাহকের জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার মতো ন্যূনতম নগদ অর্থের জোগান দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক ব্যাংককে জরুরি তারল্য সহায়তা দিতে হয়েছে।
সামগ্রিককভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রতিবেদন দেশের ইসলামিক ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা বা ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে দেখছেন ইসলামি ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, কেবল বড় সাইনবোর্ড আর কাগজে-কলমে মুরাবাহা, মুয়াজ্জাল, ইজারার মতো জটিল সব আরবি পরিভাষা ব্যবহার করে বেশি দিন আর সাধারণ গ্রাহককে আশ্বস্ত করা যাবে না। তারল্য সংকট এবং আস্থার ঘাটতি প্রমাণ করে যে, প্রকৃত শরিয়াহ ও কল্যাণমুখী নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার শাস্তি এই খাত ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছে। দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থে অবিলম্বে এই খাতের কাঠামোগত সংস্কার করা এবং লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগির আসল আদর্শে ফিরে আসা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি বলে মনে করেন তারা।
সময়ের আলো/আআ