অনলাইনে প্রসাধনী বিক্রির আড়ালে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। অনলাইনভিত্তিক প্রসাধনী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশের প্রায় ৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বিক্রয়ের বিপরীতে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করা হয়নি বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নিজস্ব সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন নথি যাচাই করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ভ্যাট ফাঁকির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশে অভিযান চালায় ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। পল্লবী বিভাগীয় দফতরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানটিতে মূসক-১২.১ প্রদর্শনের মাধ্যমে এ নিবারক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বিক্রয়-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। এ জন্য প্রতিষ্ঠানে থাকা ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের তথ্য পর্যালোচনার পাশাপাশি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহের তথ্য এবং নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবস্থায় সংরক্ষিত হিসাব পরীক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দলিলপত্রও যাচাই করেন ভ্যাট কর্মকর্তারা।
এনবিআর বলছে, এসব তথ্য পর্যালোচনার পর প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও ভ্যাট পরিশোধের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য ও নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়। ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেনড্রাইভে কপি করে নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র জব্দ করা হয়।
পরে জব্দ করা নথি ও ডিজিটাল তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেই পর্যালোচনায় কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশের বিক্রয় হিসাবের মধ্যে নিয়মবহির্ভূত লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।
এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী জব্দ করা তথ্য ও দলিলপত্র বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটির মোট ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭ টাকার নিয়মবহির্ভূত বিক্রয়ের তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এসব বিক্রয়ের বিপরীতে প্রযোজ্য ভ্যাটের মধ্যে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ভ্যাট কমিশনারেটের অভিযানে প্রতিষ্ঠানের অনলাইন বিক্রয়, সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব এবং কুরিয়ার সার্ভিসের তথ্য একসঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বিক্রয় ও নথিতে প্রদর্শিত হিসাবের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না তা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
এ ঘটনায় কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও