বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক শ্রেণির আন্দোলন ছিল না। এতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি পেশাজীবীরাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (ডিইএবি) সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত ‘রক্তাক্ত জুলাই এবং পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিইএব ডিপিডিসি শাখা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারী (মিলন) সভায় সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান জুয়েল। এতে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী তরিকুল হক, প্রকৌশলী রেজাউল করিম, শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আবুল মনসুর, প্রকৌশলী এএসএম তারেক তুষার এবং প্রকৌশলী ওবায়দুল আলম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদুকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে তিনি জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারীর হাতেও ক্রেস্ট তুলে দেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাঙালি জাতি কখনো অন্যায় মেনে নেয় না। সে কারণেই এ দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, হয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। কারণ কোনো আন্দোলন তখনই সফল হয়, যখন তা সর্বজনীন রূপ পায়। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সব শ্রেণির মানুষ আমাদের পাশে ছিল, আর চব্বিশে আমরা তরুণদের পাশে ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দাবিগুলো যৌক্তিক। যারা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের কথা সরকারের গুরুত্বের সঙ্গে শোনা এবং বোঝা উচিত। একই সঙ্গে তাদের দাবিগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দুদু বলেন, ভোট দিয়ে, রাজপথে আন্দোলন করে, জীবন ও শ্রম দিয়ে যারা এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, তাদের দাবি-দাওয়া থাকাটাই স্বাভাবিক। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব বিষয় ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন। কারণ তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার বাবা ও মা এ দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাই তিনি পেশাজীবীদের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দেবেন। তিনি আরও বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার, আমাদের স্বপ্নের সরকার।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারী (মিলন) বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে ডিইএবের প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এ আন্দোলনে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন, আবার অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি সরকারের প্রতি জুলাই আন্দোলনের অসহায় সহযোদ্ধাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় অন্য বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ খাত বেসরকারি খাতে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, যা বড় ধরনের ভুল হবে এবং এতে বিদ্যুৎ খাতে কর্মরতদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে।
তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাত বেসরকারিকরণের পরিবর্তে সিস্টেম লস কমানো এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে কীভাবে আরও কার্যকর সেবা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যথায় সাধারণ মানুষ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে তারা সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রীকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
সময়ের আলো/আরবিএন