টানা যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও গাজা উপত্যকায় শুরু হয়েছে বিচ সকার টুর্নামেন্ট। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে খেলাধুলার এই প্রত্যাবর্তন স্থানীয়দের জন্য নতুন করে আশা ও স্বাভাবিক জীবনের বার্তা নিয়ে এসেছে।
ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের আয়োজনে দুই সপ্তাহব্যাপী সপ্তম বিচ সকার টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ১২টি দল। ‘টুমরো অব প্যালেস্টাইন কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ঐতিহ্যবাহী নানা আয়োজন ছিল।
ফিলিস্তিন স্পোর্টস মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (পিএসএমএ) মহাসচিব মুস্তাফা সিয়াম বলেন, গাজায় ধীরে ধীরে ক্রীড়া কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজার ক্রীড়া অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিসহ ক্রীড়াঙ্গনের এক হাজারের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে হামলা থেকে টিকে থাকা মাত্র তিনটি মাঠে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে ১ হাজার ১২ জন ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন এবং ২৮৫টি ক্রীড়া স্থাপনা ও মাঠ ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর দৈনিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত আরও ১ হাজার ১৬৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৭৯৮ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধে গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২৪ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডে মানবিক সংকট এখনো তীব্র আকারে বিরাজ করছে।
সময়ের আলো/কেএইচ