নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সাবেক কর্মকর্তা মো. সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, মো. সামসুল আলম ২০১৮ সালের মার্চে স্বাভাবিকভাবে চাকরি থেকে অবসর নেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি পদোন্নতি পাননি। পরে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের ফলাফলের গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, অবসরের পর সামসুল আলম বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, চাকরিজীবনে কেউ বঞ্চিত হয়ে থাকলে সরকার চাইলে তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা দিতে পারে। তবে সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকা কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে আবার সরকারি চাকরিতে ফিরিয়ে আনার নজির নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সামনে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনে সামসুল আলমের নিয়োগের খবর বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উদযাপনের আবহে প্রকাশ করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/কেএইচ