চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দফতর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি আজকে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া হরতাল সোমবারও (২৭ জুলাই) উত্তর ফটিকছড়ির দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে সর্বাত্মকভাবে পালিত হচ্ছে। হরতালের কারণে দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
এরআগে গত ২১ জুলাই ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৬ জুলাই থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচির ডাক দেন। সংগঠনটির দাবি, নবগঠিত উপজেলার সদর দফতর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন না হওয়ায় তারা এ কর্মসূচি পালন করছে। একই দাবিতে গত ১৬ জুলাই উত্তর ফটিকছড়ির তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণভাবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছিলেন।
সোমবার সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজারগুলোতে থমথমে পরিবেশ। গহিরা-হেয়াকো সড়ক এবং ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ দেখা গেছে।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে হরতাল সমর্থকদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তবে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। শান্তিরহাট ও দাঁতমারা বাজার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় আন্দোলনকারীদের সড়কে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতেও দেখা যায়।
হরতালের কারণে ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশসহ উপজেলার একাধিক আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারী হাসান শামশুদ্দিন বলেন, ‘নবগঠিত উপজেলার সদর দফতর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। গত ১৬ জুলাইও সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যায়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
আন্দোলনকারী আবু তাহের বলেন, ‘এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়; এটি উত্তর ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন। আমরা যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর চাই। ’
উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, ‘ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলের যৌক্তিক স্থানে দফতর স্থাপন করতে হবে। সেই দাবির অংশ হিসেবে আজকে দ্বিতীয় দিনের মতো হরতাল চলছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর হবো।’
হরতাল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। টহলে ছিলে স্পেশাল ফোসর্ও।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘হরতালের কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্বিতীয় দিনের মতো মাঠে কাজ করছি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখনো কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’
সময়ের আলো/জেডআই