ইউপি দিয়ে খুলছে জট

শাকিল আহমেদ

জাতীয়

আগামী অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে অনুযায়ী আগামী আগস্ট

2026-07-28T02:41:50+00:00
2026-07-28T02:41:50+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ইউপি দিয়ে খুলছে জট
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:৪১ এএম 
নির্বাচন ভবন। সংগৃহীত ছবি
আগামী অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে অনুযায়ী আগামী আগস্ট মাসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে শুরু হতে পারে ভোটযজ্ঞ। 

তবে পৌরসভা নির্বাচন দিয়েও সূচনা হতে পারে এ ভোটের। এমনকি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কাছাকাছি সময়ে কিংবা সমান্তরালভাবেও এই দুই প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এমনকি কাছাকাছি সময় এই দুই প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন একসঙ্গেও চলতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য আমরা অক্টোবর ধরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওই টার্গেটেই কাজ করছি। ইউপিতে কয় ধাপে নির্বাচন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে যে ধাপে হতো মোটামুটি ওভাবেই হবে।  

তিনি বলেন, কোনো ইউপিতে মামলা থাকলে সেগুলো আমরা বাদ দেব। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা চলছে। আমরা বলছি যেগুলোতে জটিলতা আছে সেগুলো ঠিক করে ফেলেন। তবে এ সংখ্যা খুব বেশি না কারণ আমাদের কাছেও তো হিসাব আছে। যেখানে জটিলতা আছে সেখানে আমরা নির্বাচন করব না। 

ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, অক্টোবরকে সামনে রেখে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সে ক্ষেত্রে ভোটার লিস্ট ও পুলিংস্টেশনের বিষয় আছে। কাগজ-কলম ঠিক আছে কি না অর্থাৎ প্রকিউরমেন্টের বিষয় আছে। ব্যালট তো পরে ছাপা হবে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছি। 

ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যাতে সংসদ নির্বাচনের মতো সুন্দর হয় সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বসব। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা করার তাই করব। কোনো রকম ঝামেলা করতে দেব না। 

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলার সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী যুক্ত করা হলেই যে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হবে এটি কিন্তু না। আমরা নির্বাচন সহজ করার জন্য যুক্ত করেছি। যদি কোথাও দরকার হয় তা হলে মোতায়েন করব। তিনি বলেন, কমিশন ইতিমধ্যে নির্বাচনি আচরণবিধির পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে এবং তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ইসির এক কর্মকর্তা জানান, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সঙ্গে পৌরসভার তফসিল হতে পারে।

আগেই কেনা হয়েছে প্রয়োজনীয় নির্বাচনসামগ্রী : 

ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মালামাল ক্রয় করেছে ইসি। সংসদ নির্বাচনের আগে ছোট হোসিয়ান ব্যাগ ও গানি ব্যাগ প্রত্যেকটি ১ লাখ ১৫ হাজার পিস, বড় হোসিয়ান ব্যাগ ৭৫ হাজার পিস, মার্কিং সিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার পিস, অফিসিয়াল সিল ৮ লাখ ৪০ হাজার পিসসহ অন্যান্য নির্বাচনিসামগ্রী কেনা হয়। ওই সব নির্বাচনিসামগ্রীর বিপুল পরিমাণ রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদের পর যাতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করা যায়, সে জন্য এসব মালামাল আগেই কেনা হয়েছিল। কারণ নির্বাচনি মালামাল ক্রয় প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগে। বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।

দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিহীন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান : 

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর  আদালতের রায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি নেতা ডা. শাহাদত হোসেন। আর বাকি ১১টি সিটি করপোরেশনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল বিগত সরকার। 

এরপর ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তবর্তী সরকার। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদও হয়ে পড়েছে জনপ্রতিনিধিহীন। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া চলছে প্রায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।

তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ : 

এদিকে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এ ছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় সে হিসেবে এ সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি। 


স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে আলোকে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

যারা প্রার্থী হতে পারবেন না : 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি এবং খেলাপি ঋণের জামিনদাররা প্রার্থী হতে পারবেন না বলে জানিয়েছে ইসি। এ ছাড়া বাকি সব প্রার্থীরা আগের নিয়মে অংশ নিতে পারবে।

ইসি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক কমিশন সভায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। নির্বাচন কমিশন আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি  



  বিষয়:   ইউপি দিয়ে খুলছে জট 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: