অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সমাজের সব স্তরের মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের সচেতন করতে যৌথভাবে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশন্স বিভাগের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম সম্পর্ক শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. সেজানুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
এতে জানানো হয়, ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে অনলাইন জুয়ার সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত আইনগত বিধান ও শাস্তির বিষয়ও এতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপনে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং বিনা পরোয়ানায় গেফতারের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনগুলো টেলিভিশন,
সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের এই যৌথ উদ্যোগ জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের জন্যও কঠোর বার্তা দিচ্ছে যে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.) বলেন, আর্থিক খাতের নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করার দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইডি যৌথভাবে এ ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, নিরাপদ আর্থিক লেনদেন নিশ্চিতে বছরজুড়েই বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয় এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন জুয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, অনলাইনে জুয়া খেললে তা শনাক্ত করা সম্ভব নয়। কিন্তু ডিজিটাল কার্যক্রমের প্রমাণ থেকে যায়। আইনের কঠোর বিধান সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই এ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি