ফিফার পরিকল্পনা রুখতে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে ইউরোপীয় দেশগুলো

খেলা

বিশ্বকাপসহ ফিফার যেকোনো বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অধিকার ও কার্যক্রম একটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের অধীনে এনে এর বড় অংশের মালিকানা বেসরকারি

2026-07-29T03:50:17+00:00
2026-07-29T03:50:17+00:00
 
  বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
ফিফার পরিকল্পনা রুখতে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে ইউরোপীয় দেশগুলো
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫০ এএম 
ইনফান্তিনো। সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপসহ ফিফার যেকোনো বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অধিকার ও কার্যক্রম একটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের অধীনে এনে এর বড় অংশের মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা)। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এমন বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইনফান্তিনো অনড় থাকলে বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে স্পেন, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় ফুটবল পরাশক্তিগুলো।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া প্রতিনিধি রব হ্যারিস এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিস্ফোরক এ তথ্য সামনে এনেছেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিন্ন অবস্থান নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা উয়েফার সদস্য দেশগুলো এ সপ্তাহেই এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছে। ওই সভাতেই ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কটের আলটিমেটাম দেওয়ার কৌশলটি মূল এজেন্ডা হিসেবে আলোচনা হতে পারে।

তবে সংবাদমাধ্যমটি স্পষ্ট করেছে, এ পর্যন্ত ইউরোপের কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত করেনি। এমনকি ঠিক কোন কোন দেশগুলো এই কঠোর অবস্থানের পুরোপুরি পক্ষে, তাও সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। মূলত ইনফান্তিনোকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে এবং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনতে ‘বয়কটের হুমকিকে’ নিজেদের শেষ ও শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনার বিশদ প্রকাশ করে মঙ্গলবার ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে, তাদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এবং ম্যাচ আয়োজনের সামগ্রিক তদারকি এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি পৃথক কোম্পানি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিদেশি তহবিলের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অন্তত ৪২০ কোটি ডলার তোলার দূরদর্শী পরিকল্পনা এঁকেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। 

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ছেলেদের বিশ্বকাপ এবং বিশ্ব ক্লাব ফুটবলের মতো শীর্ষ আসরের আয়ের খাতগুলো ওই কোম্পানির কাছে হস্তান্তরিত হবে। অবশ্য ফিফার দাবি, বাইরের মূলধন সরবরাহকারীরা শুধুই আংশিক শেয়ারের মালিক বা সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে থাকবেন। খেলাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, সূচি নির্ধারণ ও প্রতিযোগিতার মূল প্রশাসনিক চাবিকাঠি যথারীতি শতভাগ ফিফার হাতেই কুক্ষিগত থাকবে।

তবে ইনফান্তিনো প্রশাসনের এমন উদ্যোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই গর্জে উঠেছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কঠোর ভাষায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বার্তা জারি করেছে— "ফুটবলের মূল আত্মা এবং এর ঐতিহ্যের শাসনব্যবস্থা বাজারে তোলার বা বেচাকেনা করার মতো কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়। আমরা কেউ ফুটবলের মালিক নই; ফলে এটি চড়া দামে বাজারে বিক্রি করার বিন্দুমাত্র অধিকার ফিফার নেই।"

উয়েফা আরও মনে করে, এই বাণিজ্যিক বিনিয়োগ থেকে উঠে আসা বিপুল মুনাফার টাকা কীভাবে ও কাদের পকেটে যাবে, তার স্পষ্ট কোনো স্বচ্ছতা ফিফার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তাই শুধু জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোই নয়, বরং শীর্ষ ক্লাব, ফুটবল লিগ, খেলোয়াড় সংগঠন এবং ফুটবলপ্রেমী সমর্থকদেরও সম্মিলিতভাবে ফিফার এই লোভনীয় সিদ্ধান্তের শক্ত বিরোধিতা করা উচিত।

স্কাই নিউজ দাবি করেছে, এমন একটি মেগা পরিকল্পনার বিষয়ে স্বাগতিক দেশ ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) মঙ্গলবার সংবাদ আসার আগপর্যন্ত বিন্দুমাত্র জানত না। যদিও সম্প্রতি নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনালে যোগ দেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি কর্মকর্তাদের নিয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছিল, অথচ সেখানে কৌশলগতভাবে এত বড় বাণিজ্যিক পরিকল্পনা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়।

ফিফা অবশ্য নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেছে, প্রস্তাবটি এখন পর্যন্ত কেবলই খসড়া পর্যায়ে ঝুলন্ত রয়েছে। এটি কার্যকর করতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশ ও মূল ফিফা কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত প্রয়োজন হবে। আর এই শেয়ার বিক্রির পুরো ৪২০ কোটি ডলার বিশ্বব্যাপী ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।

ফিফার হিসেব অনুযায়ী, এই নতুন প্রস্তাব পাস হলে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ফুটবল অনুদান হিসেবে প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার করে অনুদান পাবে— যা বর্তমানে ৮০ লাখ ডলারে সীমাবদ্ধ। ইনফান্তিনো আত্মপক্ষ সমর্থনে একে বিশ্ব ফুটবলের 'গণতন্ত্রীকরণ' হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

তবে রাজনীতির অংক ভিন্ন কথা বলছে। ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে উয়েফার অন্তর্ভুক্ত দেশ মাত্র ৫৫টি। যার ফলে শুধু মেজোরিটি ভোটের অঙ্কে উয়েফা চাইলেও ইনফান্তিনোর পথ রুখতে পারবে না। আর ঠিক এ কারণেই ভোটের লড়াইয়ে না গিয়ে সমস্ত ইউরোপীয় দেশকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো ব্ল্যাকমেইলিং চাপ তৈরির কৌশল বেছে নিয়েছে ইউরোপ। ইউরোপীয় দেশগুলো বাদ পড়লে ফুটবল বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মূল্য ও আকর্ষণ পুরো শূন্যে গিয়ে ঠেকবে।

উল্লেখ্য, এর আগে যখন প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের উদ্ভট পরিকল্পনা এনেছিলেন ইনফান্তিনো, তখনও ঠিক একইভাবে ‘বয়কট’ অস্ত্র ঝুলিয়েছিল উয়েফা। ২০২১ সালে উয়েফা প্রধান আলেকসান্দার সেফেরিন সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, দুই বছর পর পর বিশ্বকাপ হলে ইউরোপ অংশ নেবে না। ফলস্বরূপ প্রবল বাধার মুখে সেবার নিজের সিদ্ধান্ত গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল ফিফা।

স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়নি, সম্ভাব্য এই বর্জন কোন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে হতে পারে। তবে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারী বিশ্বকাপ এবং ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে বসবে পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষী আসর।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   ফিফা  পরিকল্পনা  বিশ্বকাপ বয়কট  ইউরোপ  দেশ 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: