ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের অধ্যায় শেষ। জাতীয় দলে আর ফিরতে চান না ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, এমনটাই জানিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ফলে সেলেসাওদের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি এখন অনেকটাই নিশ্চিত।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের জন্য ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। সেই দলে নেইমারের জায়গা হয়নি। এরপর থেকেই জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এবার সিএনএন স্পোর্তেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি জানালেন, জাতীয় দলে না ফেরার সিদ্ধান্তটি নেইমারের নিজের।
আনচেলত্তি বলেন, ‘তার মানের কারণেই বিশ্বকাপ দলে থাকার যোগ্যতা তার ছিল। নেইমার ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে সে জাতীয় দলে ফিরতে চায় না। তার বিকল্প হতে পারে না, কারণ সে ছিল এক অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা। সে একজন অপরিহার্য খেলোয়াড়।’
বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘ সময় চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। ইনজুরি কাটিয়ে আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিলেও তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ব্রাজিল কোচ মনে করেন, নেইমারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যথার্থই ছিল।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হারের পরই অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেইমার। এরপর দলবদলবিষয়ক সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের খবর প্রকাশ করেন। সেখানে নেইমারের একটি বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, চেষ্টা করেছেন এবং যে স্টেডিয়ামে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেখানেই শেষ করেছেন।
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর ব্রাজিলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন নেইমার। বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে না পারলেও জাতীয় দলের হয়ে রয়েছে তার অসংখ্য কীর্তি। দুটি অলিম্পিকে অংশ নিয়ে ২০১২ সালে রৌপ্য জয়ের পর ২০১৬ সালে ব্রাজিলকে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জেতাতে নেতৃত্ব দেন তিনি।
ব্রাজিলের হয়ে ১২৯ ম্যাচে ৮০ গোল করেছেন নেইমার, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শেষ বিশ্বকাপে অবশ্য চোট ও ফিটনেস সমস্যার কারণে নিয়মিত একাদশে ছিলেন না তিনি। টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পর বিদায়ী ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে করেন টুর্নামেন্টে নিজের একমাত্র গোল।
জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা, রেকর্ড ও অসাধারণ সব ব্যক্তিগত কীর্তি রেখে এবার ব্রাজিলের জার্সি তুলে রাখার পথেই নেইমার। আনচেলত্তির বক্তব্যে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তিই যেন আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
সময়ের আলো/টিকে