আর্সেনাল টপে, সিটির ডার্বি জয়; ধাক্কা লিভারপুল-চেলসির

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

প্রিমিয়ার লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুমের চতুর্থ ম্যাচউইক শেষ হয়েছে নাটক, গোল, কৌশলগত চমক ও বেশ কিছু বড় পরিসংখ্যান নিয়ে। ১০ ম্যাচে

2026-09-15T08:06:49+00:00
2026-09-15T08:06:49+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলা
প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ সপ্তাহ
আর্সেনাল টপে, সিটির ডার্বি জয়; ধাক্কা লিভারপুল-চেলসির
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
প্রিমিয়ার লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুমের চতুর্থ ম্যাচউইক শেষ হয়েছে নাটক, গোল, কৌশলগত চমক ও বেশ কিছু বড় পরিসংখ্যান নিয়ে। ১০ ম্যাচে মোট ২৮ গোল হয়েছে। আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের নিখুঁত জয়যাত্রা ধরে রেখেছে, লিডস নিউক্যাসলকে উড়িয়ে উঠে এসেছে তিনে। বিপরীতে লিভারপুল ও চেলসি পয়েন্ট হারিয়েছে, আর টটেনহাম ও কভেন্ট্রির শুরুটা হয়েছে আরও হতাশাজনক।

শীর্ষে আর্সেনাল, পাশে ম্যানচেস্টার সিটি

চার ম্যাচে চার জয়, ১২ পয়েন্ট—গোল ব্যবধানে এগিয়ে টেবিলের শীর্ষে আর্সেনাল। সমান ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। লিডস ৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে, আর ৭ পয়েন্ট করে হাল ও চেলসি যথাক্রমে পরের দুই স্থানে। 

আর্সেনালের শুরুটা শুধু নিখুঁতই নয়, ধারাবাহিকতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। সান্ডারল্যান্ডের মাঠে ২-০ জয়ে তারা টানা নয়টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ জিতেছে। ২০০৪ সালের পর এটি তাদের দীর্ঘতম জয়ধারা। চার ম্যাচে চার জয় আর্সেনালের জন্য মাত্র চতুর্থবারের ঘটনা।

সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্সেনালের ‘গেম ম্যানেজমেন্ট’

সান্ডারল্যান্ড ম্যাচে আর্সেনালের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ধৈর্য। ম্যাচের শুরুতে স্বাগতিকদের চাপ সামলে তারা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসকে কাজে লাগানো ছিল ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন। তিনি মাঝমাঠে বলের গতি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ান এবং পরে গোলও করেন।

সান্ডারল্যান্ড পেনাল্টি পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। ডেভিড রায়ার সেভ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর গিমারায়েসের গোল এবং যোগ করা সময়ে বুকায়ো সাকার পেনাল্টি আর্সেনালের জয় নিশ্চিত করে। 

অর্থাৎ আর্সেনাল সবসময় আধিপত্য দেখিয়ে জিতছে না; কঠিন ম্যাচে সুযোগের অপেক্ষা করে সঠিক সময়ে আঘাত করতেও পারছে। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে এই ম্যাচ-ম্যানেজমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ম্যানচেস্টার ডার্বি : ১০ জন নিয়েও সিটির জয়

ম্যানচেস্টার ডার্বি ছিল ম্যাচউইকের সবচেয়ে আলোচিত লড়াই। ম্যানচেস্টার সিটি ১-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। ফিল ফোডেনের লাল কার্ডের পর ১০ জনে নেমেও সিটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি। বরং এনজো মারেস্কার দল দ্বিতীয়ার্ধে আরও সংগঠিত হয়ে খেলে এবং আর্লিং হালান্ডের গোলে জয় পায়।

এখানেই মারেস্কার কৌশলগত সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। ফোডেনের বহিষ্কারের পর তিনি আক্রমণাত্মক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে না দিয়ে রক্ষণে অতিরিক্ত খেলোয়াড় যোগ করেন। অর্থাৎ দলটি শুধু গভীর রক্ষণে যায়নি; বল পেলে পজেশন ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। ম্যাচের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজকে তুলে নিকো ও'রেইলিকে নামিয়ে জয় ধরে রাখার দিকেও নজর দেন। 

হালান্ডের গোলটি নিয়ে অবশ্য বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনজো ফার্নান্দেজ অফসাইড পজিশনে ছিলেন কি না এবং তার অবস্থান লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে প্রভাবিত করেছিল কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে VAR সিদ্ধান্তে গোল বহাল থাকে। 

পরিসংখ্যানেও হালান্ডের আধিপত্য স্পষ্ট। ম্যানচেস্টার ডার্বিতে তার গোল এখন ৯টি, যা সার্জিও আগুয়েরো ও ওয়েন রুনির ৮ গোলকে ছাড়িয়ে তাকে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা করেছে। একই সঙ্গে সিটি ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রিমিয়ার লিগে ১০টি অ্যাওয়ে জয় পাওয়া প্রথম দল হয়েছে। 

অন্যদিকে চার ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইউনাইটেডের শুরু ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর সবচেয়ে খারাপ। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ১০ জনের সিটির বিপক্ষে এক ঘণ্টারও বেশি সময় একজন বেশি নিয়েও কেন ইউনাইটেড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। 

লিডসের ১৪ মিনিটেই নিউক্যাসল শেষ

ম্যাচউইকের শেষ ম্যাচে লিডস ৪-১ গোলে নিউক্যাসলকে হারিয়ে উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাত্র ১৪ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে ম্যাচ কার্যত নিজেদের করে নেয় ড্যানিয়েল ফার্কের দল।

৩২ মিনিটে লুইস মাইলির আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় লিডস। তিন মিনিটেরও কম সময় পর জেডেন বোগলের গোল। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডমিনিক কালভার্ট-লিউইন ৩-০ করেন। বিরতির পর নোয়া ওকাফোর চতুর্থ গোল করেন। নিউক্যাসলের হয়ে শেষ দিকে একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করেন বাজৌমানা তুরে। 

লিডসের কৌশলের বড় সাফল্য ছিল উইংব্যাক ও আক্রমণভাগের সমন্বিত ব্যবহার। নিউক্যাসলের রক্ষণকে একদিকে টেনে অন্যদিকে দ্রুত আক্রমণ তৈরি করেছে তারা। কালভার্ট-লিউইন শুধু গোল করেননি, আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতেও ছিলেন। রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তর এবং শারীরিক তীব্রতা নিউক্যাসলকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেয়।

এই জয়ে লিডসের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৮-এ, আর্সেনালের চেয়ে মাত্র চার পয়েন্ট পিছনে।

ব্রাইটনের গোলবন্যা, কভেন্ট্রির দুঃস্বপ্ন

কভেন্ট্রির মাঠে ব্রাইটনের ৫-০ জয় ছিল ম্যাচউইকের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। এই জয়ে ব্রাইটন চার ম্যাচে ১৩ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হয়েছে। 

অন্যদিকে কভেন্ট্রি চার ম্যাচেই হেরেছে এবং কোনো গোল করতে পারেনি। তারা প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম দল হিসেবে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচ হেরেছে এবং কোনো গোল করতে পারেনি। ফলে চার ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট শূন্য এবং গোল ব্যবধান -১০।

ব্রাইটনের আক্রমণভাগের বৈচিত্র্যই এখানে মূল পার্থক্য তৈরি করেছে। শুধু ফরোয়ার্ডদের ওপর নির্ভর না করে মিডফিল্ড ও ডিফেন্স থেকেও গোলের হুমকি এসেছে। প্যাসক্যাল গ্রসও ব্রাইটনের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ৫০ অ্যাসিস্টের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। 

লিভারপুলের সমস্যা : বল আছে, কিন্তু ধার নেই

অ্যানফিল্ডে ফুলহ্যামের সঙ্গে ০-০ ড্র লিভারপুলের জন্য বড় সতর্কবার্তা। প্রথম চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন সাত নম্বরে। চার ম্যাচের মধ্যে অ্যানফিল্ডে এটি তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ এবং ঘরের মাঠে এখনো জয় নেই। 

সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল আক্রমণ তৈরির ধারাবাহিকতা। লিভারপুল বল দখল ও পজেশন থেকে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও ফুলহ্যামের সংগঠিত রক্ষণ শেষ তৃতীয়াংশে তাদের জায়গা সংকুচিত করে দেয়।

এটি নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণেও লিভারপুলের ডাবল পিভটের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে বল পৌঁছানোর গতি কমে গেলে তাদের উইঙ্গার ও ফরোয়ার্ডরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

পরিসংখ্যানের দিক থেকেও এটি লিভারপুলের জন্য অস্বস্তিকর শুরু। ৬৩ বছরের মধ্যে মাত্র তৃতীয়বার তারা মৌসুমের প্রথম দুই হোম লিগ ম্যাচের কোনোটিতেই জিততে পারেনি। অ্যানফিল্ডে টানা চার লিগ ড্রও তাদের জন্য ২০১১ সালের পর প্রথম।

চেলসির পুরোনো সমস্যা : রক্ষণ

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নবাগত হালের বিপক্ষে ২-২ ড্র চেলসির রক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আক্রমণে যথেষ্ট শক্তি থাকলেও রক্ষণে ধারাবাহিকতা নেই।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান হলো, চেলসি এখন টানা ২০ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে গোল হজম করেছে। ৬৫ বছরের মধ্যে এটি তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ ক্লিনশিট-বিহীন ধারাবাহিকতা।

অন্যদিকে হাল চার ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দারুণ শুরু করেছে। প্রিমিয়ার লিগে কোনো নবাগত দলের প্রথম চার ম্যাচে এর চেয়ে ভালো শুরু হয়েছে মাত্র দুবার—নটিংহ্যাম ফরেস্ট ১৯৯৪-৯৫ এবং বোল্টন ২০০১-০২ মৌসুমে ১০ পয়েন্ট করে পেয়েছিল।

অর্থাৎ চেলসির সমস্যা শুধু একটি ম্যাচের নয়। বলের দখল ও আক্রমণ যতই শক্তিশালী হোক, নিজেদের বক্স রক্ষা করতে না পারলে বড় ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি থেকেই যাবে।

টটেনহামের গোল-খরা এখন ইতিহাস

টটেনহাম ও এভারটনের ০-০ ড্র ম্যাচউইকের সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। চার ম্যাচ পরেও টটেনহামের গোল নেই। ক্লাবটির ইতিহাসে কোনো মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে এর আগে কখনো গোলশূন্য থাকেনি। 

এভারটন অবশ্য এখনো অপরাজিত। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও প্রিমিয়ার লিগে ১০০ ক্লিনশিটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন—এই তালিকায় তিনি পঞ্চম ইংলিশ গোলরক্ষক। 

টটেনহামের কোচ রবার্তো দে জেরবিকে এখনো সেরা সমন্বয় খুঁজতে হচ্ছে। প্রথম চার ম্যাচেই তিনি শুরুর একাদশে ১২টি পরিবর্তন করেছেন। অর্থাৎ শুধু গোলের অভাব নয়, দলীয় ভারসাম্যও এখনো পুরোপুরি স্থির হয়নি।

বাকি ম্যাচগুলোতেও ছিল আলাদা গল্প

অ্যাস্টন ভিলাকে ২-১ গোলে হারিয়ে নটিংহ্যাম ফরেস্ট ৩২ বছর পর ভিলা পার্কে প্রিমিয়ার লিগ জয় পেয়েছে। ভিলার গোলের খরা এই ম্যাচে ভাঙলেও তারা এখনো জয়হীন। 

ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে ইপসউইচ ৩-২ জিতে বিশেষ এক রেকর্ড করেছে। ২৫ বছর পর প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগে কোনো ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করার পর জিতেছে তারা। তবে ২৩ ম্যাচ ধরে ক্লিনশিট না পাওয়ার দুর্বলতা এখনো কাটেনি। 

বর্নমাউথ ও ব্রেন্টফোর্ডের ২-২ ড্রও আলাদা গল্প বলছে। মার্কো রোজের অধীনে বর্নমাউথ এখনো লিগে জয়হীন। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে নয়টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে তাদের কোনো জয় নেই—চার ড্র ও পাঁচ হার।

সময়ের আলো/টিকে

  বিষয়:   আর্সেনাল  সিটি  ডার্বি  জয়  ধাক্কা  লিভারপুল  চেলসি  প্রিমিয়ার লিগ  চতুর্থ সপ্তাহ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: