২০তম এশিয়ান গেমসের পর্দা না উঠলেও ফুটবল ইভেন্টের খেলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিন সোমবার উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। কিন্তু সেই ম্যাচে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার দেখেছে কোচ পিটার বাটলারের দল। এত দিন ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৯-০ গোলের হার ছিল বড় হার। এবার সেটাকেও ছাপিয়ে মেয়েরা হেরেছে ১০-০ গোলের ব্যবধানে।
গতকাল কোচ বাটলার বলেছিলেন নতুনদের সুযোগ করে দেবেন। করেছেনও তাই; ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার ও শামসুন্নাহারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বেঞ্চে রেখেছিলেন বাটলার।
বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারে সমালোচনাও হচ্ছে এই কোচের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছে, এরকম প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অভিজ্ঞদের বাইরে রেখে কেন একাদশ সাজালেন কোচ? বাটলারের ব্যাখ্যা, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের দল তৈরি করতে চান তিনি। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় হারের দায়ও এড়িয়ে যাননি বাংলাদেশ কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না, আজকের এই ফলাফলের পুরো দায় আমি নিচ্ছি, কারণ তারা আমারই খেলোয়াড়।’
এরপরই বাটলার ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার দিকে যা তিনি প্রায়ই দিয়ে থাকেন। কোচের ভাষায়, ‘তবে আমাদের এখানে দুটি ভিন্ন গ্রুপ রয়েছে— একটি বয়স্ক বা অভিজ্ঞদের গ্রুপ, অন্যটি তরুণদের গ্রুপ। আর মাঠের বাইরের বিষয়গুলো নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি, সভাপতি (তাবিথ আউয়াল) অনেক সমর্থন করেছেন। কিন্তু অন্য কিছু মানুষ তা করেনি; যেমন গভীর রাতে খেলোয়াড়দের ফোন করা, কনফারেন্স কল করা। এভাবে তো একটি দল তৈরি করা যায় না।’
এশিয়ান গেমসে পরের ম্যাচে ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচ নিয়ে বাটলার বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচটিও হয়তো আজকে (গতকাল) আপনারা যেরকম দেখেছেন তেমনই হতে যাচ্ছে, তবে আমাদের ফিরে যেতে হবে, দলে কিছু পরিবর্তন ও পুনর্গঠন আনতে হবে এবং দেখতে হবে এখান থেকে আমরা কীভাবে সামনে এগোতে পারি।’
ম্যাচের প্রথমার্ধেই সাত গোল হজম করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে খেয়েছে আরও তিন গোল। তবে বিরতির পর দলের খেলায় সামান্য উন্নতি দেখেছেন বাটলার। তার কাছে উত্তর কোরিয়া ম্যাচের ফলের চেয়ে সামনে থাকা ২১ তারিখের মিয়ানমার ম্যাচই বাংলাদেশ নারী দলের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘১-০ বা ১০-০ ফলটা এখন বড় বিষয় নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য মিয়ানমার ম্যাচ।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে