রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকায় ছিনতাইকালে কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. চুন্নু মিয়াকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মো. মামুন ও বাবু ওরফে বাঘা বাবু।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ছিনতাইয়ের অভিযোগে পৃথকভাবে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও কারাভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানারসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার এজহার থেকে জানা যায়, গেন্ডারিয়ার শ্যামবাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন চুন্নু মিয়া। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে যাত্রাবাড়ীর আড়ৎ থেকে সবজি কিনে রিকশাযোগে ফেরার পথে ভোরের দিকে কাঠেরপুল এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করেন। এ সময় তারা চুন্নু মিয়ার কাছে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি অভিযুক্তদের চিনতে পেরে বিষয়টি প্রকাশ করলে সজিব নামের এক আসামি তাকে ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ঘটনার পরদিন নিহতের শ্যালক মো. জাহাঙ্গীর গেন্ডারিয়া থানায় ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৪ জুন গেন্ডারিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আদালতে সজিব, মামুন ও বাঘা বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই বছরের ৭ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
বিচার চলাকালে ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে বিচারাধীন অবস্থায় আসামি সজিব মারা যাওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেন। বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
সময়ের আলো/জেডি