ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব হচ্ছে, ব্যয় ১১ কোটি ২৪ লাখ

রফিকুল ইসলাম সবুজ

জাতীয়

এগারো কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি নির্মাণ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ডার্ক ওয়েব, এনক্রিপটেড ম্যাসেজিং

2026-08-01T04:34:17+00:00
2026-08-01T04:34:17+00:00
 
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
ডার্ক ওয়েব-ক্রিপ্টো নজরদারি
ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব হচ্ছে, ব্যয় ১১ কোটি ২৪ লাখ
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৪ এএম 
ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি। ছবি : সংগৃহীত
এগারো কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি নির্মাণ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ডার্ক ওয়েব, এনক্রিপটেড ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে পরিচালিত মাদক পাচার ও লেনদেন শনাক্ত এবং আদালতে ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 তবে প্রকল্পটির ব্যয়, প্রযুক্তি নির্বাচন এবং এর বাস্তবায়ন মেয়াদ যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনরায় দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাচাই কমিটি। গত ১৯ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি নির্মাণ প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে সভায় জানানো হয়, বর্তমানে মাদক ব্যবসা ক্রমেই ডিজিটাল মাধ্যমে বিস্তৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট, ডার্ক ওয়েব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, ই-মেইল, এনক্রিপটেড ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম এবং ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা ও অর্থ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। 

নতুন ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব চালু হলে এসব ডিজিটাল মাধ্যম থেকে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধ শনাক্ত করা এবং আদালতে গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ধারা ৩৫ (ক) অনুযায়ী ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট এবং ভার্চুয়াল সম্পদের মাধ্যমে হওয়া মাদক লেনদেনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তা শনাক্ত করাও সহজ হবে। ল্যাবটি চালু হলে আদালতে ভিডিও বা অডিও ক্লিপের মতো ডিজিটাল প্রমাণের সত্যতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ল্যাবের জন্য প্রস্তাবিত বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জামের প্রাক্কলিত ব্যয় বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা এবং ল্যাবের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা বা ইন্টেরিয়র খাতের ব্যয় হ্রাস করে তা পুনরায় নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত যে সময়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আরও বাস্তবসম্মতভাবে পুনর্নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের নবম তলায় স্থাপিত হবে, এর জন্য নতুন কোনো ভবন নির্মাণের প্রয়োজন পড়বে না। প্রাথমিকভাবে অধিদফতরের বিদ্যমান জনবল দিয়েই ল্যাব পরিচালনা করা হবে। এ জন্য একজন উপপরিচালক, দুজন সহকারী পরিচালক, একজন পরিদর্শক, তিনজন উপপরিদর্শক, একজন কম্পিউটার অপারেটর, দুজন সিপাই এবং একজন অফিস সহায়ক নিয়োজিত থাকবেন। পরে অধিদফতরের প্রস্তাবিত ৭৭ সদস্যের সাইবার ক্রাইম ইউনিট গঠিত হলে সেই ইউনিটের জনবল দিয়েই পূর্ণাঙ্গভাবে ল্যাব পরিচালনা করা হবে।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ল্যাবের সব সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত হবে। ফরেনসিক সফটওয়্যারগুলোর লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে, যা রাজস্ব বাজেট থেকে সরবরাহ করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি পরিচালনার জন্য কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট বৈদেশিক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ল্যাবরেটরির জন্য ক্রয়কৃত প্রতিটি ফরেনসিক সলিউশন বা প্রযুক্তির সঙ্গে চারজন কর্মকর্তার জন্য সার্টিফিকেশন ফরেন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 

বৈদেশিক প্রশিক্ষণের আগে এবং পরে কর্মকর্তাদের জন্য দুটি স্তরে স্থানীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রতি ব্যাচে ছয়জন অংশ নেবেন। প্রতিটি ফরেনসিক প্রযুক্তির প্রাক্কলিত মূল্যের সঙ্গেই এই প্রশিক্ষণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং দরপত্র আহ্বানের সময় সার্টিফিকেশনসহ প্রশিক্ষণের বিষয়টি শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হবে বলে সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তারা জানান, প্রাথমিকভাবে অধিদফতরের নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ল্যাবটি চালু করা হলেও ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত ৭৭ জনবল বিশিষ্ট ‘সাইবার ক্রাইম ইউনিট’-এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের মতো জটিল ডিজিটাল অপরাধ শনাক্তকরণে দক্ষ করে তোলা হবে।

সভায় প্রকল্প প্রস্তাবনা ষ্পষ্ট না হওয়ায় প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পাশাপাশি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রকল্পটি কীভাবে অবদান রাখবে তা ডিপিপিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে সব ডিজিটাল যন্ত্রপাতি আধুনিক, যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে, তবে সেগুলোর মূল্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। 

দক্ষ জনবল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় দেশীয় ও বিদেশি প্রশিক্ষণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে এবং প্রকল্প চলাকালে নিয়োজিত জনবলের বেতন-ভাতা প্রচলিত পে-স্কেল অনুযায়ী ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। হালনাগাদ ফরম্যাটে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করে দ্রুত তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   ডার্ক  ওয়েব-ক্রিপ্টো  নজরদারি  ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব  ব্যয় 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: