রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে। হামলায় একটি আবাসিক ভবনের অংশ ধসে পড়ায় বহু মানুষ আটকা পড়েন।
শনিবার (১ আগস্ট) ভোরে এ হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একের পর এক বিস্ফোরণে পুরো কিয়েভ কেঁপে ওঠে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, শহরের শেভচেনকিভস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলার অংশ ধসে পড়ে। এতে অনেক বাসিন্দা ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছু গুদামেও আগুন লাগে।
দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।
এ সপ্তাহে কিয়েভে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা। এর দুই দিন আগে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলার সময় একটি সন্দেহভাজন রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে গিয়ে পড়ে। একই হামলায় ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ শহরের কাছে একটি গ্রামে একই পরিবারের ছয় সদস্যসহ মোট নয়জন নিহত হন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, এসব হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত মার্কিন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে ইউক্রেন।
জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে দেশটির তেল সংরক্ষণাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দেশেই উৎপাদনের লাইসেন্স পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ভবিষ্যতে সেই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সময়ের আলো/কেএইচ