দেশের সিংহভাগ ব্যবসা গুটিয়ে নিল আলোচিত শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। শনিবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে আরও ১১ কারখানা। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নানা ঘাত-প্রতিঘাতে জর্জরিত দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপটির বড় ধরনের এ সিদ্ধান্ত নিল। তবে এটি স্থায়ী নাকি অস্থায়ী তা এখনও পরিষ্কার করেনি গ্রুপ কর্তৃপক্ষ।
গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা জানালেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আর্থিক ও কাঁচামাল সংকটে কারখানাগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ এক মাস আগে থেকে কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করে। ধাপে ধাপে পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে ছাঁটাই করা হয় কারখানার শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
সব প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধের নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে- এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি পশুখাদ্য কারখানা এবং আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট। তবে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল আছে।
চট্টগ্রাম নগরীর আছাদগঞ্জ ও রাজধানীর করপোরেট অফিস মিলিয়ে আছেন আরও প্রায় ৩০০ কর্মকর্তা। এদের মধ্যে শখানেক কর্মকর্তা গত দুই বছরে এস আলম ছেড়ে গেছেন। কেউ বয়সের কারণে অবসরে গেছেন। কেউ স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন।
করপোরেট অফিসের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনও বহাল আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ‘কারখানার সব স্টাফকে নিয়ম অনুযায়ী তাদের সব পাওনা বুঝিয়ে বিদায় করা হয়েছে। করপোরেট অফিস থেকে যারা গেছেন তারাও পাওনা বুঝে পেয়েছেন।’
আরেক কর্মকর্তা বললেন, ‘কোম্পানির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার পর কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু ছিল না।’
এস আলমের কারখানাগুলোতে কাজ করা শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিংহভাগই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এক মাস ধরে প্রক্রিয়া চললেও কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তুলে ধরছেন নানা প্রতিক্রিয়া।
এ বিষয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে কর্মরতরা যেন নিজ দায়িত্বে ফিরে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশের প্রায় সবকটি কারখানার শ্রমিকদের নোটিস দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিগত প্রায় দুই বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সবকিছু চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কাঁচামাল না থাকা এবং এলসি বন্ধ থাকার পরও এতদিন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে গ্রুপের কোনো পজিশন বা তারল্য নেই। ফলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ টিকিয়ে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।
সময়ের আলো/এসএকে