পর্যটন খাতকে টেকসই ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
রোববার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন নেতৃত্ব দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বাংলাদেশে একটি টেকসই, আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন খাত গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এই মহাপরিকল্পনা দেশের পর্যটন উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
আফরোজা খানম বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাবে পরিণত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ছাড়া নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ এবং পর্যটন খাতের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল ও মোটেলগুলোতে তাদের জন্য বিশেষ মূল্যছাড় দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, পর্যটন খাত থেকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ থেকে ৭ শতাংশ অবদান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যটন খাতে বিদ্যমান তথ্যের ঘাটতি দূর করতে দেশব্যাপী ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে টোয়াবসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউছার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, বাংলাদেশে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইংলেট, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপালা ওয়েরাক্কোডি, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার হাজী হারিস বিন হাজী ওসমান, নেপাল ও পাকিস্তান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা, টোয়াব নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যটন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এসএকে