দীর্ঘ প্রায় এক মাসের অনিশ্চয়তার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সেফটি ভালভের উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরীক্ষাটি সফল হয়। সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়া আটকে ছিল। উচ্চচাপ পরীক্ষা সফল হওয়ায় সেই জট কাটল বলে জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ তথা সেফটি ভালভের ১৯ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরীক্ষা মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হয়ে বুধবার সফলভাবে শেষ হয়েছে। মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ— দুই জায়গা থেকেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলোর কার্যকারিতা সন্তোষজনক পাওয়ার পর মূল সেফটি ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা-বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম ও সতর্কসংকেত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
প্রকল্পের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষার আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সব ধরনের নিরাপত্তার বিষয় যাচাই করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে এ পরীক্ষার সফল সমাপ্তি কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সময়সূচি বজায় রাখার চেষ্টার মধ্যেও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে আরেকটি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে এগোচ্ছে।
এর আগে সেফটি ভালভের এই ত্রুটি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, এ ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে, তবে তখন তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি।
চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার পর সেপ্টেম্বর থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু চুল্লির দুটি সেফটি ভালভ কাজ না করায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
পরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মন্ত্রী নিজেই জানান, চলতি মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না এবং কবে তা সম্ভব হবে, তা-ও নিশ্চিত নয়। এই সময়ে প্রকল্প এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।
প্রথম ইউনিটের এ বিলম্বের প্রভাব দ্বিতীয় ইউনিটের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দ্বিতীয় ইউনিট এমনিতেই নির্ধারিত সময়সূচির চেয়ে পিছিয়ে ছিল।
পরিস্থিতি সামলাতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি রুশ বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে পৌঁছায়। বাংলাদেশি ও রুশ প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হলো।
এর আগে প্রথম ইউনিট চালুর লক্ষ্যে রাশিয়ার পরমাণু প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয় ইউনিট থেকে একটি ভালভ প্রথম ইউনিটে স্থানান্তরের প্রস্তাবও দিয়েছিল।
সময়ের আলো/কেএইচও