বরিশালের বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই অবৈধভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০টি মেহগনি ও ৪টি নারকেল গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। গাছ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিজ্ঞদের মতে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখানো হলেও গাছগুলোর মূল্য আরও অনেক বেশি হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরের পূর্বপাড়ে মসজিদ লাগোয়া বাগানে শ্রমিকরা মেহগনি ও নারকেলগাছ কেটে স-মিলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছেন।
এসময় সেখানে উপস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী শাওন জানান, হাসপাতালের মসজিদের দোতলার কাজ করার জন্য জাহাঙ্গীর সরদার নামের এক গাছ ব্যবসায়ীর কাছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। ইউএনও ও বন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়ে গাছ বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
টেন্ডার ছাড়া গাছ বিক্রির কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুল আজিজ বলেন টেন্ডার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া টেন্ডার দিলে গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হতো। এসব কারণে মসজিদ সংস্কারের জন্য টেন্ডার ছাড়া গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত আছেন বলেও তিনি জানান।
গাছের ক্রেতা বানারীপাড়ার রায়েরহাটের স-মিল মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় ১০টি মেহগনি ও ৪টি নারকেল গাছ ক্রয় করে গত ৩ দিন ধরে তা কেটে নিচ্ছেন।
উপজেলা বন. কর্মকর্তা মো. তাহেরুল ইসলাম বলেন, তার কাছ থেকে এক বছর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি গাছের মূল্য নির্ধারণ করে নেওয়া হয়েছিল। তবে মূল্য নির্ধারণ করা হলেও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ বিক্রির কোন সুযোগ নেই।
বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ কাটা ও বিক্রির কোন সুযোগ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডাল কাটার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে গাছ কাটা ও বিক্রির কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাছাড়া তার কর্তৃপক্ষ সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আমি নই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, সরকারি গাছ বিক্রির সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে বিষয়টি অনিয়ম হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আতা