‘হাসিনা পলাইছে, মা আমি মিছিলে’

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও বোয়ালখালী প্রতিনিধি

সারাদেশ

সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানীর উত্তরায় আনন্দ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন ওমর বিন নুরুল আবছার। নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছিলেন একটি

2026-08-05T06:16:53+00:00
2026-08-05T06:35:13+00:00
 
  বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
৫ আগস্টে শহিদ ওমরের শেষ কথা
‘হাসিনা পলাইছে, মা আমি মিছিলে’
চট্টগ্রাম ব্যুরো ও বোয়ালখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ এএম  আপডেট: ০৫.০৮.২০২৬ ৬:৩৫ এএম
৫ আগস্টে শহিদ ওমর । ছবি : সংগৃহীত
সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানীর উত্তরায় আনন্দ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন ওমর বিন নুরুল আবছার। নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছিলেন একটি শব্দ ‘স্বাধীন’। এরপর মাকে ফোন করে উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘মা, নিউজ পাইছ? শেখ হাসিনা পলাইছে। আমি এখন বিজয় মিছিলে, সবাই মিষ্টি খাচ্ছে। সেই আনন্দের ফোনকলই এখন তার মা রুবি আক্তারের সঙ্গে ওমরের শেষ কথা ও স্মৃতি। 

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আকুবদন্ডী গ্রামের ছেলে ওমর বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ট্রেনিং সেন্টারে (বিএটিসি) ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছিলেন। আর মাত্র তিন মাস পরই তার ইন্টার্নশিপ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট উত্তরায় গুলিতে থেমে যায় তার সব স্বপ্ন।

৫ আগস্ট ২০২৪ বেলা পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দীন রোডে আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন ওমর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে ৭ আগস্ট বোয়ালখালীর নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তবে তদন্তের প্রয়োজনে ঘটনার প্রায় ১০ মাস ২০ দিন পর ২০২৫ সালের ২৫ জুন আদালতের নির্দেশে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত শেষে একই দিন পুনরায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এক বছর পরও ময়নাতদন্ত বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাননি জানিয়ে রুবি আক্তার বলেন, আমাদের একটাই চাওয়া সঠিক বিচার হোক। যে স্বপ্ন নিয়ে আমাদের ছেলেরা জীবন দিয়েছে সেই দেশটা যেন শান্তি ও ন্যায়বিচারের দেশ হয়।


রুবি আক্তার জানান, ৪ আগস্ট মোবাইলে ব্যালেন্স দিতে বলেছিলেন ওমর। তিনি ভুলে যাওয়ায় সকালে ছেলে অভিমান করে বলেছিল, আম্মু, টাকা দাও নাই, তাই কল দিতে পারতেছিলাম না। পরে ব্যালেন্স পাঠিয়ে আবার দুপুর ১টার দিকে কথা হয়। সেই সময়ই ওমর মাকে জানান, তিনি বিজয় মিছিলে আছেন।

দুপুরে খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন রুবি আক্তার। এ সময় মেয়ে জান্নাতুল হুররাইন উত্তরার পরিস্থিতির খবর দেখে ভাইকে ফোন দিতে বলেন। ফোন করলে অপরিচিত একজন ধরে জানান, ওমরের পায়ে গুলি লেগেছে। এরপর শুরু হয় উৎকণ্ঠার অপেক্ষা। হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চলতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত ওমরের নিথর দেহের একটি ছবি আসে। ছবিটি দেখেই ভেঙে পড়েন রুবি আক্তার। তার কথায়, আমি তখন শুধু নামাজ পড়ছিলাম আর কাঁদছিলাম। কোনো কথা বলতে পারিনি। ওমরের বাবা নুরুল আবছার সৌদি প্রবাসী। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে ফিরে আসেন।৭ আগস্ট বোয়ালখালীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ওমরকে।

ছয় ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় ওমরই ছিলেন সংসারের ভরসা। বড় ভাই শ্রবণ ও বাক-প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব তার কাঁধেই উঠেছিল। বড় বোন জান্নাতুল হুররাইনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ঘরের অভিভাবকের ভূমিকাও পালন করতেন তিনি। 

রুবি আক্তার বলেন, ওমর প্রায়ই বলত, আর মাত্র কয়েকটা মাস অপেক্ষা করো মা। ইঞ্জিনিয়ার হয়ে চাকরিতে ঢুকে যাব।  আজ ঘরের প্রতিটি জিনিসে ওর স্মৃতি। মনে হয়, দরজা খুলে এখনই বুঝি ও ঘরে ঢুকবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি


  বিষয়:   হাসিনা  মিছিল  ওমর  গণ-অভ্যুত্থান  ৫ আগস্ট  ৩৬ জুলাই  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: