জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের জীবন্ত দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ত্যাগ, কোনো সংগ্রাম কোনোদিন বৃথা যায় না। ইতিহাস কখনও মিথ্যা হয় না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।’
জুলাইয়ে অংশগ্রহণকারীদের আত্মত্যাগ প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ২ দশকের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এই আন্দোলনে যারা শহিদ ও আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা, তাৎপর্য ও ব্যাপকতা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কীভাবে গণতন্ত্রের নামে একটি রাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে জনগণের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে। সেই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ ও তুলে ধরতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এর কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও জানান, এই জাদুঘরে নিয়মিত গবেষণা হবে। নতুন প্রজন্ম যেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে পারে, আমরা সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট, এ ২০ দিনেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল ফ্যাসিবাদী শক্তির সাজানো সাম্রাজ্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই ইতিহাসেরই নাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করবে।’ একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে চিরজাগরুক রাখতে জাদুঘরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই মন্ত্রী বলেন, ‘অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়ে যে নতুন নবজাগরণের সূচনা হয়েছে, তাকে আমরা চিরজাগরুক রাখব। এই অঙ্গীকার নিয়েই আমাদের পথচলা।’
সময়ের আলো/মহু