পঞ্চগড় সদর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহামুদ আলমকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক ১২ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পঞ্চগড় সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সফিজুল, নুর ইসলাম ও বাবুসহ তাদের বংশীয় লোকজনের সঙ্গে শিক্ষক মাহামুদ আলমের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে সোমবার দুপুরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। মারধরের একপর্যায়ে তাঁর বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে যায়। পরে তাঁকে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে গলা থেকে পা পর্যন্ত বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও জানা যায়।
শিক্ষক মাহামুদ আলমের অভিযোগ, নির্যাতনের সময় তাঁর স্কুলব্যাগে থাকা জমি বন্ধক ফেরতের নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এছাড়া তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, ভিডিওতে সবাই দেখেছেন আমাকে কীভাবে দীর্ঘক্ষণ গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র জানান, ঘটনাটি শোনার পর তিনি উদ্ধারের জন্য গ্রাম পুলিশ পাঠান। তবে এর মধ্যেই ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। একজন শিক্ষককে গাছে বেঁধে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আতা