এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ৮৭ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাসে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে। তবে এরপরও বিশাল ঘাটতি রেখেই অর্থবছর শেষ করেছে জাতীয় রাজস্ব

2026-08-06T05:40:52+00:00
2026-08-06T05:40:52+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
অর্থনীতি
এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ৮৭ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাসে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে। তবে এরপরও বিশাল ঘাটতি রেখেই অর্থবছর শেষ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অথচ অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজস্ব আদায়ের এই চিত্র প্রকাশ করে এনবিআর।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুন মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। তবে শেষ মাসের এই উচ্চ প্রবৃদ্ধিও পুরো অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুন পর্যন্ত সাময়িক হিসাবে) এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। অথচ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা কম হয়েছে।

তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও আগের অর্থবছরের চেয়ে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ। কারণ, আগের বছরের চেয়ে রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা।

রাজস্ব আহরণের তিনটি প্রধান উৎস- আমদানি ও রফতানি-সংশ্লিষ্ট শুল্ক, অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আয়কর- সব খাতেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ঘাটতি থেকে যাওয়ায় অর্থবছরের সার্বিক রাজস্ব চিত্র প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বলই রয়ে গেছে। অর্থবছরের শুরু থেকে রাজস্ব আদায়ে যে চাপ ছিল, শেষ মাসের ভালো সংগ্রহও সেটি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী জুন পর্যন্ত আমদানি পর্যায়ে শুল্ক, আমদানি পর্যায়ের ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর মিলিয়ে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ১৯৮ কোটি টাকার কিছু বেশি। ফলে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ। আমদানিনির্ভর রাজস্ব এখনও এনবিআরের অন্যতম বড় আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ভ্যাট খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। স্থানীয় পর্যায়ের ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, টার্নওভার ট্যাক্স এবং অন্যান্য উৎস মিলিয়ে এ খাতে মোট আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকার কিছু বেশি। ফলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এনবিআরের মোট রাজস্বে স্থানীয় ভ্যাট খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এ খাতের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে আয়কর, ভ্রমণ কর ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ কর মিলিয়ে জুন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি টাকার কিছু বেশি। সে হিসাবে আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা প্রধান তিনটি রাজস্ব উৎসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শুধু জুন মাসের হিসাবেও প্রায় সব বড় খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ওই মাসে আমদানি পর্যায়ের বিভিন্ন শুল্ক ও কর থেকে আদায় হয়েছে ১২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৭১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। স্থানীয় পর্যায়ের ভ্যাট খাতে আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা, যেখানে প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ২৭ শতাংশ। একই সময়ে আয়কর খাতে আদায় হয়েছে ২৪ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের জুনের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের শেষ মাসে বড় অঙ্কের কর পরিশোধ ও বকেয়া আদায়ের কারণে সাধারণত রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ে। এনবিআরের প্রকাশিত সাময়িক হিসাবেও সেই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যায়।


তবে শেষ মাসে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়লেও পুরো অর্থবছরের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৩ শতাংশ আদায় হয়েছে। বাকি প্রায় ১৭ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়নি। অর্থবছরের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম আদায়ের যে প্রবণতা ছিল, শেষ মাসেও তা পুরোপুরি কাটেনি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাতগুলোতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও কয়েকটি উপখাতে আদায়ের হার কমেছে। তবে এনবিআরের প্রকাশিত এই তথ্যপত্রে প্রবৃদ্ধির কারণ, লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে থাকার কারণ কিংবা রাজস্ব আহরণে কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এতে শুধু খাতভিত্তিক রাজস্ব আদায়, লক্ষ্যমাত্রা এবং আগের বছরের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এনবিআরের এই হিসাব সাময়িক। চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের সময় কিছু অঙ্কে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে দ্বি-অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। অর্থবছরের শেষ মাসে রাজস্ব আদায়ে গতি ফিরে এলেও সেটি বছরের সার্বিক ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট ছিল না। ফলে রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা- এই দুই সূচকের মধ্যে ব্যবধানই এবারের অর্থবছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিত্র হয়ে উঠেছে।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে


  বিষয়:   এনবিআর  রাজস্ব  ঘাটতি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: