ডিজেলের দাম বাড়লে সবজির বাজারে কীভাবে প্রভাব পড়ে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

সবজির দাম শুধু জমিতে উৎপাদন খরচের ওপর নির্ভর করে না। কৃষকের খেত থেকে শুরু করে ভোক্তার বাজার পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে

2026-09-23T15:13:41+00:00
2026-09-23T15:17:23+00:00
 
  বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি
ডিজেলের দাম বাড়লে সবজির বাজারে কীভাবে প্রভাব পড়ে?
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম  আপডেট: ২৩.০৯.২০২৬ ৩:১৭ পিএম
সবজির বাজার। ছবি : সংগৃহীত
সবজির দাম শুধু জমিতে উৎপাদন খরচের ওপর নির্ভর করে না। কৃষকের খেত থেকে শুরু করে ভোক্তার বাজার পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে একাধিক ধাপে পরিবহন লাগে। দেশের সড়কপথে পণ্য পরিবহনের বড় অংশই ডিজেলচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে, ডিজেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সবজির বাজারে পড়তে পারে।

একটি সবজি খেত থেকে স্থানীয় বাজারে নেওয়া, সেখান থেকে আড়তে পাঠানো, এরপর জেলা বা বিভাগীয় শহর হয়ে রাজধানীর পাইকারি বাজারে আনা এবং সবশেষে খুচরা বাজারে পৌঁছানো-প্রতিটি ধাপেই পরিবহন খরচ রয়েছে। ডিজেলের দাম বাড়লে এসব পর্যায়ে ব্যবহৃত ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বাড়ে। ফলে, পরিবহনকারীরা ভাড়া বাড়াতে পারেন।

এই বাড়তি পরিবহন খরচ প্রথমে যুক্ত হয় সবজির সরবরাহ ব্যয়ে। কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনার পর ব্যাপারী যখন তা অন্য বাজারে পাঠান, তখন বাড়তি ভাড়া তার মোট খরচের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর পাইকারের কাছে বিক্রির সময় সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের ওপর পারে। পাইকার থেকে খুচরা বিক্রেতার কাছেও একইভাবে পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের একটি অংশ ভোক্তার দেওয়া দামের মধ্যে চলে আসে।

সবজির ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এগুলো দ্রুত পচনশীল পণ্য। দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করে দাম কমার অপেক্ষা করার সুযোগ সীমিত। ফলে, পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে ব্যবসায়ীদের পণ্য দ্রুত বাজারজাত করতে হয় এবং বাড়তি ব্যয় পণ্যের বিক্রয়মূল্যে সমন্বয়ের চাপ তৈরি করে।


আবার শুধু সবজি পরিবহনেই ডিজেলের ব্যবহার সীমাবদ্ধ নয়। কৃষিকাজের বিভিন্ন পর্যায়েও জ্বালানি লাগে। জমি চাষ, সেচ, ফসল পরিবহন এবং কখনো ফসল সংগ্রহের কাজেও ডিজেলচালিত যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। ফলে, জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন-দুদিক থেকেই কৃষকের খরচ বাড়তে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাজারের অন্যান্য ব্যয়। সবজি আড়তে তোলা, নামানো, বাছাই, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রম ও পরিচালন ব্যয় রয়েছে। পরিবহন খরচ বাড়ার সঙ্গে এসব ব্যয়ের কিছু অংশও বাড়তে পারে। এতে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যায়।

তবে, কোনো সবজির উৎপাদন কোথায় হচ্ছে, বাজার থেকে তার দূরত্ব কত, কত ধাপে পরিবহন হচ্ছে, সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক, উৎপাদন কত হয়েছে এবং বাজারে চাহিদা কেমন- এসব বিষয়ের ওপরও দাম কতটা বাড়বে তা নির্ভর করে।

দেশে নতুন করে ডিজেল লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ার পর শুরুতেই প্রভাব পড়েছে সবজি ও ডিমে। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ এবং ডিমের ডজনে ৫ টাকা বেড়েছে। 

হাতিরপুল বাজারের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পণ্যের দামে। শাকসবজির পাশাপাশি নতুন করে এখন যেসব ভোগ্যপণ্য বাজারে আসবে, সেগুলোর দামও বেড়ে যেতে পারে।


কারওয়ান বাজারে সবজি নিয়ে আসা এক ট্রাকচালক বলেন, ‘৫০ কিলোমিটার দূরত্বে গেলে দুদিন আগের তুলনায় এখন অতিরিক্ত ১৬০ টাকার বেশি তেল খরচ হয়। সে জন্য ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে।’

আড়তদার আবুল হাসান বলেন, ‘পরিবহন খরচের যেই বাড়তি টাকাটা দিতে হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই সবজি বিক্রির মাধ্যমে সেই অতিরিক্ত খরচটা তুলে আনতে হবে। তাই সবজির দাম বাড়াতে হয়েছে। ধরেন, দুদিন আগে যেই সবজি ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি, তা এখন ৫৫ টাকা।’

রোববার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পটল ও ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৬০, ঝিঙে, ধুন্দুল, লম্বা বেগুন ও উচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া, কাঁচামরিচের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পটল ও ঢ্যাঁড়শের কেজি ৬০ থেকে ৮০ এবং ঝিঙে, ধুন্দুল, লম্বা বেগুন ও উচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, এসব সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা দর বেড়েছে। কাঁচামরিচের কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।


ভোক্তা-সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ভাড়া বাড়বে। তবে, এই বৃদ্ধিকে পুঁজি করে কেউ যেন অরাজকতা তৈরি করতে না পারে, সেদিকে সরকারকে কঠোর নজরদারি করতে হবে। 

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন এক গণমাধ্যমে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সব সময় দাম বাড়ানোর ইস্যু খোঁজেন। এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে চ্যাপ্টা হচ্ছে ভোক্তা। এখন ডিজেলের দাম বৃদ্ধি জিনিসপত্রের দামকে আরও উস্কে দেবে। এতে কম আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে এখন আগের মতো নজরদারি নেই। কঠোর তদারকি ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জহিরুল ইসলাম জানান, সারাদেশে তাদের কার্যক্রম নিয়মিত চলছে। নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। তবে, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পক্ষে সব দিক নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। 

সময়ের আলো/মহু

  বিষয়:   ডিজেল  সবজি  বাজার  প্রভাব  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: