মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে পারেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা রাষ্ট্রপতি পদে তাকেই প্রার্থী মনোনীত করার ব্যাপারে

2026-08-06T22:14:03+00:00
2026-08-07T17:31:09+00:00
 
  শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম  আপডেট: ০৭.০৮.২০২৬ ৫:৩১ পিএম
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংগৃহীত ছবি
বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে পারেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা রাষ্ট্রপতি পদে তাকেই প্রার্থী মনোনীত করার ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। 

আগে অনেকের নামই আলোচনায় এসেছিল, কিন্তু শেষপর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই গুরুত্ব পাচ্ছে নেতাদের কাছে। বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাদের দলের শীর্ষ নেতা এরই মধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কারও কারও সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনীত করার প্রশ্নে আলোচনা করেছেন। 

এ আলোচনা থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরই দল থেকে মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের ওই নেতা। বিএনপি এবার একজন রাজনীতিবিদকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে চায়, আর তা হতে হবে দলের ভেতর থেকে। দলটির নেতারা এমন অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। 

সেই অবস্থান থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিবের নামই বিবেচনায় এসেছে বলে জানান এর নেতাদের অনেকেই। এ বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। 

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এমন প্রেক্ষাপটে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থী দিচ্ছে না। ফলে বিএনপির প্রার্থীই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪শে জুলাই। তার পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এখন নির্বাচন কমিশন আগামী ২০শে অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

মির্জা ফখরুলই কেন রাষ্ট্রপতি বিবেচনায় এগিয়ে

বিএনপিতে একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি দলটির বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং জনগণের মাঝে মির্জা ফখরুলের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করে দলটি । এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের দলের মহাসচিবকে সম্মান দিতে চাইছে বলে বলছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা। 

তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে। 

শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুলই ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে। 

বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন।  

মির্জা ফখরুলের এ ভূমিকাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ণ করেন বলে দলটির নেতারা বলছেন।

তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেওয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রপতি। 

এছাড়া, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হয়েছে। অতীতে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা। 

এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও বিএনপি সরকার এবার দলের ভেতর থেকে সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করার অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। 

আলোচনায় আছে আরও যাদের নাম 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া আরও অনেকের নাম আলোচনায় ছিল গণমাধ্যমে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান। 

এছাড়া ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় ছিল। তাদের মধ্যে মির্জা ফখরুলের নাম যে গুরুত্ব পাচ্ছে, সেক্ষেত্রে দুই ধরনের বিশ্লেষণও রয়েছে বিএনপিতে। 


দলটির কেউ কেউ মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এতদিনের ভূমিকার জন্য তাকেই বঙ্গভবনের বাসিন্দা করে সম্মানিত করা উচিত।

আবার অনেক নেতা মনে করেন, বঙ্গভবনের বাইরে বিএনপি সরকারের তার মত অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের প্রয়োজন আছে। সেখানে ঘাটতি হতে পারে। 

এদিকে, বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের। তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত দেবেন বলে দলটির সূত্রগুলো বলছে।

বিরোধী দল জামায়াত থেকে নেই কোন প্রার্থী 

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে বলা আছে। ফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি যাকে প্রার্থী মনোনয়ন করবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

এই বিষয়কে উল্লেখ করে কোনো প্রার্থী না দেওয়ার কথা বলছে জামায়াত। কারণ তারা প্রার্থী দিলে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই যুক্তিই তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সরকারি দল বিএনপি সংসদের বিরোধী দলগুলোর কোনো মতামত নিচ্ছে না। 

যদিও বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের শাসনের পতনের পর সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই ১৯৯১ সালে সংসদে ভোটাভুটি হয়েছিল। তখন জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপি প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বান ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। 

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ১৩ই অগাস্ট, যাচাই-বাছাই ১৬ই অগাস্ট, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ই অগাস্ট।

আইন অনুযায়ী, নির্বাচনি কর্মকর্তা নির্ধারিত দিনে মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন।

প্রার্থী একজন হলে এবং যাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে, একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে কমিশন।

তখন সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হলে স্পিকার সাত দিন আগে বৈঠক আহ্বান করতে পারেন। 


সূত্র : বিবিসি বাংলা

সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   মির্জা ফখরুল  রাষ্ট্রপতি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: