ট্যানারি বর্জ্যে হুমকিতে বংশী-ধলেশ্বরী, দুর্ভোগে সিংগাইর

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

সাভারের হেমায়েতপুর বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর ট্যানারি বর্জ্য ও বিষাক্ত দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ও জামির্ত্তা

2026-08-07T13:10:59+00:00
2026-08-07T13:10:59+00:00
 
  বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ট্যানারি বর্জ্যে হুমকিতে বংশী-ধলেশ্বরী, দুর্ভোগে সিংগাইর
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:১০ পিএম 
হেমায়েতপুর বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর ট্যানারি বর্জ্য ও বিষাক্ত দুর্গন্ধে দুর্ভোগ। ছবি : সময়ের আলো
সাভারের হেমায়েতপুর বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর ট্যানারি বর্জ্য ও বিষাক্ত দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ও জামির্ত্তা ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই বাতাসে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্যে বংশী ও ধলেশ্বরী নদীর পানি, জীববৈচিত্র্য ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা শিল্পনগরীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুম ও শীতকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্যানারি বর্জ্যের দুর্গন্ধে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও স্বস্তি মেলে না। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।


  
অভিযোগ রয়েছে, শিল্পনগরীর বর্জ্য বংশী ও ধলেশ্বরী নদীতে মিশে পানিদূষণ বাড়াচ্ছে। এতে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও কৃষিজমি। অনেক জেলে জীবিকা হারিয়ে বিকল্প পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছেন।

হাজারীবাগ থেকে পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ১৮ বছর ৬ মাস। ২০২১ সালে সমাপ্ত প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হয় ৯৩৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এ সময় ৪৭টি খাতে প্রায় ৯৯৫ কোটি ৭১ লাখ টাকার অডিট আপত্তিও ওঠে।

পরিকল্পনা কমিশনের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ৪৭৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর নয়। শোধনাগারের সক্ষমতার তুলনায় বেশি বর্জ্য উৎপন্ন হওয়ায় যথাযথ পরিশোধন সম্ভব হচ্ছে না। ডাম্পিং ইয়ার্ড, কঠিন বর্জ্য ও স্লাজ ব্যবস্থাপনাতেও রয়েছে ঘাটতি।


সুদক্ষিরা গ্রামের বাসিন্দা বাদল মোল্লা বলেন, ট্যানারি বর্জ্যের দুর্গন্ধে নদীসংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি কৃষিজমিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।

জামির্ত্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, ট্যানারি সাভারে হলেও সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তার ইউনিয়নের মানুষকে। ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদী রক্ষায় আন্দোলনে নামতে হবে।

বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বর্তমান সিইটিপির উন্নয়নকাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন সিইটিপি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইলিয়াস মাহমুদ বলেন, সিইটিপির সীমাবদ্ধতার কারণেই বর্জ্য ও দুর্গন্ধজনিত পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   ট্যানারি বর্জ্যে হুমকিতে বংশী-ধলেশ্বরী  দুর্ভোগে সিংগাইর 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: