পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এবার সাভার চামড়া শিল্পনগরী ও আশপাশের আড়তগুলোতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সফলভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া। দু-একটি ট্যানারি সাময়িকভাবে লবণ ও শ্রমিক সংকটে পড়লেও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সহজেই সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে বলে আড়ত ও ট্যানারি মালিকরা নিশ্চিত করেছেন। তবে ঢাকার বাইরে থেকে কাঁচা চামড়া নিয়ে আসা সাধারণ বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই সাভারের ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়ায় লবণ দেয়ার মূল কাজ শুরু হয়। নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত দক্ষ শ্রমিক ঈদের দিন বিকেল চারটা থেকে বিরতিহীনভাবে চামড়া সংরক্ষণের কাজে অংশ নেন। ট্যানারি প্রতিনিধিরা জানান, পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ এবং শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমের কারণেই সময়মতো কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রথম ধাপ শেষ করা সম্ভব হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার চামড়াও তুলনামূলক অনেক কম নষ্ট হয়েছে।
তবে সাভারের কিছু কিছু ট্যানারিতে হঠাৎ লবণ ও শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ায় চামড়া বিক্রেতাদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আড়তদার ও বিক্রেতাদের মতে, পর্যাপ্ত পরিমাণ শ্রমিক পাওয়া গেলে চামড়া সংরক্ষণের এই কাজ আরও অনেক আগে এবং দ্রুত শেষ করা যেত। শুক্রবার সকাল ১০টার পরও কোরবানির প্রথম দিনের চামড়া সাভারের বিভিন্ন আড়ত ও ট্যানারিতে ঢুকতে দেখা গেছে এবং এখনও সীমিত পরিসরে চামড়া সংরক্ষণের কাজ চলছে।
সাভার শিল্পনগরীর পাশের আড়ত মালিকরা জানান, সামগ্রিক আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি। তবে সিলেট, হবিগঞ্জসহ ঢাকার বাইরে থেকে আসা কিছু চামড়া সময়মতো প্রক্রিয়া করতে না পারায় সেগুলোর গুণগত মান কিছুটা নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলস্বরূপ বাজারে সেগুলোর দাম বেশ কম পাওয়া গেছে।
ঢাকার বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় চামড়া সংরক্ষণের জন্য তাঁরা সময়মতো পর্যাপ্ত লবণ কিংবা শ্রমিক পাননি এবং অনেকেই চামড়া প্রসেস করার সঠিক নিয়ম জানেন না। এ ছাড়া চামড়া ফেলে না দিয়ে বিক্রির আশায় ট্রাকে করে ঢাকায় আসার পথে রাস্তাঘাটের তীব্র যানজট এবং বেহাল সড়কের কারণে সময়মতো আড়তে পৌঁছাতে না পারায় চামড়ার মান কমে গেছে, যা তাঁদের কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করেছে।
সময়ের আলো/টিএইচ