স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, বাণিজ্যমন্ত্রী ইকোসকের সভাপতি ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা এবং ইকোসকের সহ-সভাপতি ও আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামার কাছে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতিকালের পূর্ণ সুফল গ্রহণ করতে পারেনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর এই অনুরোধ উত্তরণ বিলম্বিত করার জন্য নয়; বরং ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার সুসংহত করা, সুশাসন জোরদার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ এবং একটি টেকসই মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই সময় প্রয়োজন।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
এছাড়া ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।
ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতি এলডিসি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্বীকার করেন। একই সাথে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে মসৃণ ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে আগামী দিনগুলোতে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
সময়ের আলো/জেডি