নড়াইল সদর উপজেলার দত্তপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নড়াইল-যশোর মহাসড়ক থেকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের মূল সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা জানান, নড়াইল-যশোর মহাসড়ক থেকে বিদ্যালয়ের এই সংযোগ পথটিই যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে বর্ষা এলেই রাস্তাটি কাদা-পানির ডোবায় পরিণত হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ও জুতো নষ্ট হওয়া যেন নিত্যদিনের ঘটনা। সামান্য অসাবধানতায় পিছলে পড়ে ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। পোশাক কাদায় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথ থেকেই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্ষাকালে এই সংযোগ সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী ও ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে চরম ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। কাদা-পানির ভয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চাচ্ছেন না। পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সড়কটি পাকা বা সংস্কারের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের (ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি মো. তারিকুজ্জামান লিটু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামের কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা নিতে এসে প্রতিদিন যদি কাদায় আছাড় খায়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি বড় কোনো সড়ক নয়, মাত্র একটি সংযোগ পথ। কিন্তু প্রশাসনিক অবহেলার কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। জনস্বার্থে ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য আমরা নড়াইল সদর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই নন, এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো রোগী বা বয়স্ক মানুষকে নিয়ে এই পথ দিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা ছোট কোনো যানবাহনও বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারে না।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সংযোগ সড়কটি চলাচলের উপযোগী না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/জোই