জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ‘বঙ্গবন্ধু স্কয়ার’-এর স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’।
এর আগে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বিদ্রোহী হলের পাশে (তৎকালীন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি নির্মাণ ও উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলে।
এরপর ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৮তম সিন্ডিকেট সভায় ‘বঙ্গবন্ধু স্কয়ার’ এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’। আর এর প্রায় দেড় বছর পর জুলাই-২৪ স্কয়ার নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও মতপার্থক্য। কেউ বলছে জুলাই আন্দোলনে আহত-নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে থাকবে জুলাই-২৪ স্কয়ার। আবার কেউ বলছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে জুলাই-২৪ স্কয়ার নির্মাণ করা হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাড়াবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শোভন বলেন, বিষয়টি কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে। সমর্থকদের দৃষ্টিকোণ থেকে, জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে নতুন স্মৃতিচিহ্ন নির্মাণ বর্তমান ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সংরক্ষণ করবে এবং সেই আত্মত্যাগকে সম্মান জানাবে। আবার সমালোচকদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ম্যুরাল বা স্মৃতিচিহ্ন যেখানে ছিল, সেখানে নতুন কিছু নির্মাণ করা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাছাড়া এই স্থানেই না করে অন্য স্থানে নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। গণতান্ত্রিক সমাজে ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মাসুম বলেন, জুলাইকে ধারণ করে ভাস্কর্য বা স্থাপনা নির্মাণকে সাধুবাদ জানাই। তবে যেখানে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার ছিল, সেখানেই কেন এটা নির্মাণ করতে হবে! এতে কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাড়বে না? আবার ৫-১০ বছর পর অন্যদল এসে যে জুলাই এর স্থাপনা ভাঙবে না, এর গ্যারান্টি কী?
দেড় বছর পর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দফতরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, নির্মাণ করতে তো টাকা লাগে। এখনো নির্মাণ শুরু হয়নি, সংস্কার হচ্ছে। আর সংস্কার হলো এই নির্মাণকার্যেরই একটা অংশ।
বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের জায়গায়ই জুলাই-২৪ স্কয়ার নির্মাণ করা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের তো আর জায়গা নেই। বিকল্প কোনো জায়গা নেই যে, অন্য স্থানে এইটা তৈরি করবো।
সময়ের আলো/জোই